
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ পদত্যাগের দুদিন পর রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন ‘গ্রিন ভিলা’য় উঠেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করেন। এর আগে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছরের মেয়াদ থাকলেও মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব পালন করেন তিন বছর তিন মাস। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করার পর দীর্ঘ মেয়াদে বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেন তিনি। পদত্যাগের পর বঙ্গভবন ছাড়ার মধ্য দিয়েই তাঁর সরকারি বাসভবনে অবস্থানের অবসান ঘটল।
এদিকে একই দিনে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদায়ী রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের দাবি ও আইনি অবস্থান নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময় এবং বর্তমান সরকারের প্রথম ৬ মাস সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনকালে মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী আইনি সুরক্ষার (প্রিভিলেজ) মধ্যে ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী ওই সময়ে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের মামলা করার সুযোগ ছিল না। স্বৈরাচারের শেষদিন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র হিসেবে আমরা তাঁর কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ বিভিন্ন সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলতেই পারে—গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী মুক্ত পরিবেশে সবারই কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে তাঁদের বক্তব্যের মধ্যে আইনত আমলে নেওয়ার মতো কোনো তথ্য বা উপাদান আমরা দেখিনি।”
সাবেক রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি আইনানুযায়ী প্রাপ্য সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন। নিরাপত্তা বিধানের জন্য বিধি অনুযায়ী আগামী ৬ মাসের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর নিরাপত্তা কভার পাবেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমেও তাঁর নিরাপত্তা জোরদার রাখা হবে।
