নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্সটাউনে এক প্রবাসী বাংলাদেশির প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ছয় বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার গভীর রাতে (মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে) এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের পাঁচজন ও মুন্সীগঞ্জের একজন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের একাংশের দাবি, এটি স্রেফ দুর্ঘটনা নয়; মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিতে আগুন ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ ও দগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
আগুনে পুড়ে প্রাণ হারানো ছয়জন হলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন: ফাহিম (২৯), আপন আহমেদ (২৩), নুর মোহাম্মদ (৫৫) এবং ফয়সাল (২৬)। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়ন: শাহিন (৩০)। মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভা: রাজিক (৫৫)।
মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে স্বজনদের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছালে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নিহত আপন আহমেদের বাবা আলী মিঞা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “পেটের তাগিদে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। সোমবারই শেষ কথা হয়েছিল, সেদিনও ছেলেটা রোজা রেখেছিল। সকালে শুনলাম আমার সব শেষ হয়ে গেল।”
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক ও আলীরটেক ইউপি সদস্য রওশন আলীর ভাই রতন জানান, দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে তার এই অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে দ্রুত সমন্বয় করা হচ্ছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।

