কূটনৈতিক প্রতিবেদক: তিন দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন সফররত এই জ্যেষ্ঠ মার্কিন কূটনীতিক। বৈঠকে দুদেশের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কূটনীতি ও কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাকে অত্যন্ত গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বাংলাদেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে ভ্রমণ পরিস্থিতি এখন পূর্বের তুলনায় বহুগুণ নিরাপদ ও সুসংহত বলে ঘোষণা দেন।
এক্স বার্তায় সার্জিও গোর লেখেন, “সন্ধ্যায় আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছি যে, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করে এটিকে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল বলে বিবেচনা করেছে। এ প্রেক্ষিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ভ্রমণ সতর্কতা (ট্যুরিস্ট অ্যাডভাইজরি) ‘লেভেল ৩’ থেকে কমিয়ে ‘লেভেল ২’-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি খবর! তবে সীমিত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় কিছু বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে, যা মার্কিন নাগরিকদের এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
মার্কিন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন সার্জিও গোর। পৌঁছানোর পরপরই এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বাংলাদেশের রাজধানীতে আসতে পেরে এবং ঢাকাস্ত মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে পেরে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সফরের বাকি দিনগুলোতে দুদেশের মধ্যকার বোঝাপড়া আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঝটিকা এই সফরে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতির এই বিশেষ বার্তা বাহক। সফরের প্রথম দিনেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সফল বৈঠকের পাশাপাশি রাতেই বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর এক বিশেষ নৈশভোজ ও নীতি-নির্ধারণী বৈঠকের সূচি নির্ধারিত রয়েছে, যেখানে দুদেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতা প্রসারে আলোচনা হবে।
সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সার্জিও গোর সরাসরি কক্সবাজারে চলে যাবেন। সেখানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন তিনি। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সংকট ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার কথা রয়েছে তাঁর।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ওয়াশিংটন থেকে এটি কোনো উচ্চপর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তার তৃতীয় ঢাকা সফর। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই সফর ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও দূরগামী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

