আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ লেবাননে রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘ সামরিক অভিযান শেষ করে ঘাঁটিতে ফিরতেই এক নজিরবিহীন ও বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আদেশ না মেনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও চরম বিশৃঙ্খলার পর ইজরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কুখ্যাত সদে তেইমান সেনাঘাঁটি একযোগে ছেড়ে পালিয়েছেন শত শত সেনা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইসরায়েলি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ালা’ (Walla)-র এক চাঞ্চল্যকর বিশেষ প্রতিবেদনে সেনা বিদ্রোহের এ খবর সামনে আসে। পালিয়ে যাওয়া সেনাসদস্যরা আইডিএফের অন্যতম শীর্ষ ও অভিজাত ‘গিভাতি ব্রিগেডের’ অন্তর্ভুক্ত সাবার ব্যাটালিয়নের সদস্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ অভিযানের পর সেনাসদর থেকে পুরো বাহিনীকে নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এর মধ্যেই সাবার ব্যাটালিয়নের সিনিয়র কমান্ডাররা সৈন্যদের ব্যারাক ও কোম্পানিগুলোতে বহু বছর ধরে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী প্রতীক, অনানুষ্ঠানিক চিহ্ন ও স্মারক পতাকা সম্পূর্ণ অপসারণের একতরফা নির্দেশ দেন। প্রবীণ ও তরুণ সেনাসদস্যদের দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত এই চিহ্নগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো ব্যাটালিয়ন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ব্যাটালিয়নের এক প্রত্যক্ষদর্শী সেনাসদস্য সংবাদমাধ্যম ওয়ালাকে বলেন, “অধিনায়কদের সাথে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা উত্তেজিত হয়ে ৫ কেজির একটি ভারী হাতুড়ি দিয়ে আমাদের সংরক্ষিত প্রথাগত প্রতীক ও স্মারক চিহ্নগুলো একে একে গুঁড়িয়ে ভেঙে দেন। এটিই সাধারণ সেনাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দেয়।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী সেনাসদস্যরা শীর্ষ কমান্ডারদের বিরুদ্ধে মারাত্মক অপমানজনক ও অশালীন স্লোগান দিচ্ছেন। ‘সব অফিসার জাহান্নামে যাক’ বলে চিৎকার করতে করতে পুরো প্লাটুন ব্যাটালিয়ন এলাকা ত্যাগ করে বেরিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শুরুতে কেবল দুই-এক ডজন সেনা প্রতিবাদ জানালেও মুহূর্তেই পুরো ব্যাটালিয়ন খালি হয়ে পড়ে। ব্যাটালিয়ন চত্বরে কেবল কয়েকজন নিরুপায় কমান্ডার ছাড়া কোনো সাধারণ সেনা সদস্য অবশিষ্ট ছিলেন না।
উল্লেখ্য, গিভাতি ব্রিগেডের এই ব্যাটালিয়নটি সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননের বিউফোর্ট রিজ ও বিন্ট জাবালের মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল রণাঙ্গনে একটানা লড়াই চালিয়ে ঘাঁটিতে ফিরেছিল। সফল অভিযানের জন্য সেনাসদরের বিশেষ প্রশংসাও পেয়েছিল তারা। তবে মানসিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যে ব্যাটালিয়নের ঐতিহ্যবাহী স্মারক ধ্বংসের নির্দেশ তাদের চরম বিদ্রোহী করে তোলে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জোর আলোড়ন সৃষ্টি হলে ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, “একটি যুদ্ধরত ব্যাটালিয়নের বেশ কিছু সেনাসদস্য তাদের অধিনায়কদের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘাঁটি ত্যাগ করেছেন। ব্যাটালিয়নের অনানুষ্ঠানিক ও প্রথাগত চিহ্নগুলো অপসারণের সময়ই এই শৃঙ্খলারীতি ভঙ্গের ঘটনা ঘটে।”
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চরম এই আদেশ অমান্য ও বৈরী আচরণের বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আইডিএফের সামরিক নীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী এই কর্মকাণ্ডে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

