বেসরকারি খাতের সুদিন ফেরাতে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাই-ভোলেজ বৈঠক

0
বেসরকারি খাতের সুদিন ফেরাতে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাই-ভোলেজ বৈঠক

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা, শিল্পখাতের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে বড় ধরনের পথনকশা আঁকছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা সহজীকরণ (Ease of Doing Business), জ্বালানি সংকট সমাধান এবং শিল্পে গতি ফেরাতে সরকারের নীতিগত সহায়তার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে মূলত দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করার নানা দিক নিয়ে খোলামেলা ও বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার প্রধান ক্ষেত্রগুলো ছিল, দেশীয় শিল্পে নতুন মূলধন নিশ্চিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) দ্রুত বৃদ্ধির উপায়। শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। রাজস্ব নীতিকে ব্যবসাবান্ধব করা এবং অযাচিত শুল্ক জটিলতা হ্রাস করা। নতুন বৈশ্বিক বাজার সৃষ্টি এবং ঐতিহ্যবাহী রপ্তানি পণ্যের পাশাপাশি নতুন খাতের বাজার তৈরি। ব্যাংক খাতের সংস্কার, ঋণ প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা ও শিল্প অর্থায়নের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ। বন্দর ব্যবস্থাপনা, পরিবহন এবং সাপ্লাই চেইনের দক্ষতা বৃদ্ধিতে লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন।

বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে শিল্প পরিচালনার মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জগুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

তারা জানান, দেশের শিল্পখাতকে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। এর পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক বা নিয়ন্ত্রক জটিলতা (Regulatory Hurdles) নিরসন, করব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জোরদার করার বিষয়ে তারা জোর দাবি জানান।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, নীতিগত সহায়তা পেলে দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন বিনিয়োগে আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বেসরকারি খাতই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্যবসায়ীদের মতামত ও পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে সরকার দ্রুততম সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। শুধু এককালীন বৈঠক নয়, বেসরকারি খাতের সমস্যা নিয়মিত চিহ্নিত করতে এবং দ্রুত সমাধান দিতে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত সরকারি-বেসরকারি সংলাপ (Public-Private Dialogue) অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের সাথে এমন খোলামেলা বৈঠক দেশের বাণিজ্য ও সার্বিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে আস্থার সঞ্চার করবে। এর ফলে একদিকে যেমন নতুন স্থানীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও বাংলাদেশের স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হবে।