গরুতে শসা খাওয়া নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: বাপের প্রাণ গেল, ছেলেসহ আহত ২০!

0
গরুতে শসা খাওয়া নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: বাপের প্রাণ গেল, ছেলেসহ আহত ২০!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ সামান্য একটি গরুতে খেতের শসা খাওয়াকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনা শেষ পর্যন্ত রূপ নিল ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের কোপে প্রাণ হারিয়েছেন হামদু মিঞা (৫০) নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নীরব মিঞাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বাইগদা বন্দেরবাড়ি এলাকায় এ তাণ্ডব ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত হামদু মিঞা বাইগদা বন্দেরবাড়ি এলাকার ছোট্ট মিঞার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার শুরু গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে। প্রতিবেশী আবুল হোসেনের একটি গরু হামদু মিঞার জমির শসা খেয়ে ফেললে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

এর জের ধরে শুক্রবার বিকেলে হামদু মিঞার ছেলে নীরব স্থানীয় বাজারে গেলে তাকে দেখতে পেয়ে থাপ্পড় মারে আবুল হোসেনের ছেলে ইয়াসিন। খবর পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হামদু মিঞা পাল্টা লাঠি দিয়ে আঘাত করলে ইয়াসিনের মাথা ফেটে যায়। এই নিয়ে এলাকায় রাতভর থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

গতকালকের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে শনিবার সকাল হতেই আবুল হোসেনের লোকজন সংগঠিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামদু মিঞার বাড়িতে তাণ্ডব ও হামলা চালায়। মুহূর্তে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের সরাসরি কোপে ঘটনাস্থলেই রক্তাপ্লুত হয়ে ঢলে পড়েন হামদু মিঞা। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ সময় বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে হামদুর ছেলে নীরবসহ দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম. এম. রকীব উর রাজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান “বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পুনরায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।”

সামান্য শসা খাওয়াকে কেন্দ্র করে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো হরষপুর ইউনিয়নে শোক ও চরম আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।