মার্কিন শীর্ষ ৪৫ হাই-প্রোফাইল ব্যবসায়ীর আগামী সপ্তাহে ঢাকা সফর

0
মার্কিন শীর্ষ ৪৫ হাই-প্রোফাইল ব্যবসায়ীর আগামী সপ্তাহে ঢাকা সফর

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আরও জোরদার হচ্ছে। তারই প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৪৫ জন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীর একটি বড় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের হাই-ভোলেজ বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এসব চাঞ্চল্যকর ও আশাব্যঞ্জক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ড. মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশে তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার যে নানামুখী ও সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে, মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর তার অসামান্য প্রশংসা করেছেন।

“বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করার এই ঐতিহাসিক পথচলায় যুক্তরাষ্ট্র সবসময় পাশে থাকবে। দু’দেশের কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এখন কেবল সহায়তার গণ্ডিতে না রেখে একটি নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার উচ্চতায় নিয়ে যেতে ওয়াশিংটন অত্যন্ত আগ্রহী।” — ড. মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আমূল দ্রুত ও গতিশীল করতে সরকার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে। ব্রিফিংয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, দেশের প্রধান প্রধান সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন সেবা চালুর বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রশাসনিক প্রস্তুতি শেষ করে অতি দ্রুত এই ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও রপ্তানি পণ্য খালাসের দীর্ঘসূত্রতা কমবে, ব্যবসায়িক ব্যয় বা ‘কস্ট অফ ডুইং বিজনেস’ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিযোগী বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা বহুলাংশে বেড়ে যাবে।

উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন ক্ষেত্রগুলোতে মার্কিন বিনিয়োগ এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা নিয়ে খোলামেলা কথা হয়েছে। বিগত সময়ের তীব্র অব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট কাটাতে সরকারের গৃহীত বৈপ্লবিক পদক্ষেপগুলো মার্কিন প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়।

একই সঙ্গে, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে ব্যবসা পরিচালনায় প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং সরকারি দপ্তরগুলোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে সংস্কার কার্যক্রম পুরোদমে চলমান বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একই দিনে দেশের প্রথম সারির শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ড. মাহদী আমিন জানান, দেশীয় শিল্পপতিদের সঙ্গে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও ব্যাংক-করনীতির জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত সমাধান খোঁজা হয়েছে। সরকার ও দেশীয় বেসরকারি খাতের এই যৌথ উদ্যোগের ওপর ভর করেই মার্কিন শীর্ষ ব্যবসায়ীদের ঢাকা সফরের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের ভঙ্গুর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আবার নতুন উদ্যমে চাঙ্গা করে তুলবে।