বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি রংপুরে লাইনচ্যুত, চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

0
বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি রংপুরে লাইনচ্যুত, চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

জয়নাল আবেদীন: লালমনিরহাটের বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী একটি ট্রেনের ইঞ্জিন ও একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রংপুর নগরীর বাবুপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।এতে কোনো যাত্রী হতাহত না হলেও প্রায় দেড় ঘণ্টা ওই পথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা ৪৬১ কমিউটার ট্রেনটি রংপুর স্টেশন এলাকায় পৌঁছানোর পর ইঞ্জিনের কয়েকটি চাকা লাইন থেকে পড়ে যায়। একই সময় পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকাও লাইনচ্যুত হয়। এতে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ।খবর পেয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি আলাদা করে ট্রেনটি অন্য লাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ওই পথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী ইসলাম বলেন, রেললাইনের ৩ নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার করা হয়নি।

এক ও দুই নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হলেও ৩ ও ৪ নম্বর লাইনে পাথর দেওয়া হয়নি। লাইনে পাথর না থাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।ট্রেনের যাত্রী মোহাম্মদ বলেন, ট্রেনের গতি বেশি থাকলে স্প্রিং ভেঙে পেছনের বগিগুলো সামনে চলে আসতে পারত। তবে ট্রেনের গতি কম থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। ট্রেনের গতি স্বাভাবিক ছিল এবং স্টেশনে দাঁড়ানোর জন্য যতটুকু গতি প্রয়োজন, ততটুকুই ছিল বলেও জানান তিনি।নূর মোহাম্মদ আরও বলেন, বিভাগীয় শহরের প্রধান রেলস্টেশন রংপুরে দুটি লাইন প্রস্তুত থাকলেও আরেকটি লাইনের অবস্থা খুবই খারাপ। কাটগুলো পচে গেছে এবং লাইনে পাথর নেই। ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে কমপক্ষে তিন- চারটি লাইন প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। আজকের ঘটনার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ দায়ী বলেও অভিযোগ করেন তিনি।রংপুর রেলস্টেশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এলআর ট্রেনটির নির্ধারিত পথ ছিল ৩ নম্বর লাইন। স্টেশনের পয়েন্ট পার হওয়ার পর সামনের দিকে গিয়ে ইঞ্জিনের চাকাগুলো লাইনচ্যুত হয়। একইসঙ্গে পেছনের একটি বগির কয়েকটি চাকাও লাইন থেকে পড়ে যায়।তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামের ইঞ্জিন কেটে নিয়ে এবং সেখানকার বগিগুলো আলাদা করে এক নম্বর লাইনে রাখা হয়। এরপর লাইন স্বাভাবিক করা হয়েছে।

বর্তমানে রংপুর স্টেশনে ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা নেই।লালমনিরহাট অঞ্চলের বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) ধীমান ভৌমিক জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফারুকুল ইসলাম মানিককে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।