শ্রীমঙ্গলে শরতের ভোরে মাঘের আমেজ: কুয়াশার চাদরে শীতের আগমনী বার্তা

0
শ্রীমঙ্গলে শরতের ভোরে মাঘের আমেজ: কুয়াশার চাদরে শীতের আগমনী বার্তা

মোঃ জালাল উদ্দিন: শরৎ এখনো বিদায়ের পথে পুরোপুরি পা বাড়ায়নি। আকাশে শরতের নীলিমা আর প্রকৃতিজুড়ে সবুজের সমারোহ থাকলেও ভোরের আবহে বদলে গেছে ঋতুর চিরচেনা মেজাজ। সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) ভোরের আলো ফোটার আগেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রকৃতিকে ঢেকে দেয় ঘন কুয়াশার সাদা চাদর। ভোরের এই ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন প্রকৃতি চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যে যোগ করেছে এক ভিন্ন মাত্রা। শরতের ভোরেই যেন মাঘের কুয়াশার আগাম আবির্ভাব ঘটেছে এখানে।

ভোরের ঘন কুয়াশায় দূরের পথ, গাছপালা ও চারপাশের পরিচিত দৃশ্য হারিয়ে যায় আবছা পর্দায়। দূরের গাছপালা কুয়াশার আড়ালে ঝাপসা হলেও কাছের ডালপালা ও পাতাগুলো ধূসর আবছায়ায় এক রহস্যময় রূপ ধারণ করে। কোথাও কুয়াশা এতটাই ঘন যে দৃশ্যমানতা একেবারেই কমে যায়, আবার কোথাও সূর্যের মৃদু আলো কুয়াশা ভেদ করে ছড়িয়ে দেয় সোনালি আভা। কুয়াশায় মোড়া ভোর, শীতল বাতাস আর চারপাশের নীরবতা মিলিয়ে শরতের সকালেই যেন শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

চা-বাগানের সবুজ, টিলা আর কুয়াশার এই মেলবন্ধনে শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতি পেয়েছে অন্যরকম এক নান্দনিকতা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে এলে স্পষ্ট হতে শুরু করে পথঘাট ও চারপাশের সবুজ রূপ।

শ্রীমঙ্গলের বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি নিয়ে সাংবাদিক মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, “শরৎ এখনো শেষ হয়নি, অথচ ভোরের ঘন কুয়াশা দেখে মনে হচ্ছে মাঘের কুয়াশা যেন আগেভাগেই শ্রীমঙ্গলের দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছে। কুয়াশার সাদা চাদরে ঢাকা গাছপালা, ঝাপসা পথ আর নীরব প্রকৃতি শীতের আগমনী বার্তাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্য শুধু চা-বাগানের সবুজে সীমাবদ্ধ নয়; ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে এখানকার প্রকৃতি প্রতিনিয়ত নতুন রূপ ধারণ করে। কুয়াশায় ঢাকা এই সকাল তারই চমৎকার উদাহরণ।”

তিনি আরও বলেন, “শরতের বুকে কুয়াশার এই আবির্ভাব যেন প্রকৃতির নীরব কবিতা। মনে হচ্ছে, শরৎ বিদায়ের আগে শীতকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কুয়াশার প্রতিটি পরত বলে দিচ্ছে—ঋতুর পালাবদল শুরু হয়েছে, শীতও আর খুব বেশি দূরে নয়।”

প্রকৃতিবিদ ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোরে কুয়াশা দেখা দিলেই শীত পুরোপুরি নেমে এসেছে—এমনটা বলা না গেলেও আবহাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এমন কুয়াশা সৃষ্টি হয়। তবে সবুজ, পাহাড়ি-টিলা ও চা-বাগানঘেরা শ্রীমঙ্গলে কুয়াশার উপস্থিতি মানুষের মনে শীতের স্মৃতি ও আমেজকে জীবন্ত করে তোলে।

সূর্যের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার পর্দা সরে গিয়ে নতুন দিনের ব্যস্ততা শুরু হলেও ভোরের সেই কয়েক ঘণ্টার অপার্থিব দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে রেখে যায় গভীর মুগ্ধতা। ৫ অক্টোবরের এই কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল প্রমাণ করে—শরৎ তার শেষ সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর কুয়াশার সাদা চাদর জড়িয়ে দুয়ারে কড়া নাড়ছে শীত।