বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডে চরম অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পনা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির কারণে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার না করে ১৮০ দিনের তথাকথিত ‘সাফল্যমণ্ডিত’ চিত্র তুলে ধরে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে প্রতারণার রাজনীতি করেছে, বর্তমান বিএনপি সরকারও একই পথ অনুসরণ করছে।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে খেলাফত মজলিসের আমিরসহ শরিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের জনআস্থা তলানিতে পৌঁছেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও সার সংকটে কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ১৮০ দিনের এই ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সরকার শুরুতেই ওয়াদা ভঙ্গ করেছে।
সরকারের দুর্বল ও আত্মবিশ্বাসহীন পররাষ্ট্রনীতির কারণে সীমান্তে পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা ও পানি বণ্টন চুক্তির মতো ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে না। শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর জাতির জন্য কল্যাণকর হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়ে জোট নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক বাধা এলে তা গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিহত করা হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এই আন্দোলন ত্বরান্বিত করা হবে।

