
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ গড়িয়েছে ষষ্ঠ মাসে। কিন্তু হরমুজ প্রণালি ঘিরে মার্কিন যে আগ্রাসী কৌশল ছিল, তা চরম কৌশলগত অচলাবস্থা ও সামরিক ব্যর্থতার মুখোমুখি। আকাশচুম্বী সামরিক আধুনিকতা থাকা সত্ত্বেও তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন।
বরং হরমুজ প্রণালির এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে থমকে দেওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পুরোনো মার্কিন একক নিয়ন্ত্রণকে ভেঙে বহুমুখী ও বহু-মেরুকেন্দ্রিক এক বিশ্বব্যবস্থার জন্ম দিচ্ছে।
খামেনি হত্যার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে মিত্র দেশগুলোর নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকহীন ড্রোনের মাধ্যমে ইরান বিশ্বের ২৪ শতাংশ খনিজ তেল পরিবহনের এই জলপথ কার্যত অচল করে দিয়েছে।
প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর অতিরিক্ত মোতায়েন ও অনিশ্চয়তা সেনাসদস্যদের চরম অবসাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২৫০ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় নাবিকদের মধ্যে তীব্র খাদ্য সংকট, দূষিত পানি ও মানসিক বিষণ্নতার মতো ভয়াবহ খবর প্রকাশ্যে এসেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় পেন্টাগন ১,৬০০ নাবিকের বায়োমেট্রিক ও ঘুম পর্যবেক্ষণ করছে।
যুদ্ধ সত্ত্বেও তেহরান নিজেকে বিজয়ী রূপে তুলে ধরছে। মে মাসে ইরান এককভাবে ‘পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধের পূর্ববর্তী মার্কিন আধিপত্যে তারা আর ফিরবে না। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার, অবরোধ বাতিল ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে অনড় থেকে তারা ওয়াশিংটনের কৌশলগত অসহায়ত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আমেরিকার ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো চীন ও মধ্য এশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ আঞ্চলিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে দ্বিতীয় প্রধান স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
এই সংকটময় মুহূর্তে পাকিস্তান অত্যন্ত সুচতুর ‘হেজিং’ বা ভারসাম্যমূলক নীতি অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, চীন ও রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান পুরো অঞ্চলের নতুন রাজনৈতিক নিয়ামক হয়ে উঠছে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর
