লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধ দমনে সরকারের ‘মাস্টারপ্ল্যান’: তথ্য দিলেই দুই লাখ টাকা পুরস্কার

0
লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধ দমনে সরকারের ‘মাস্টারপ্ল্যান’: তথ্য দিলেই দুই লাখ টাকা পুরস্কার

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় এবং লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এবার সর্বাত্মক ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অবৈধ অস্ত্রের খোঁজ দিলে নগদ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে না পারলে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি অ্যাকশন নেওয়ার চরম বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগস্থ ‘বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়াম’-এ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে (এপ্রিল-জুন ২০২৬: দ্বিতীয় কোয়ার্টার) প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।

অবৈধ অস্ত্রের তথ্য সংগ্রহ ও উদ্ধারে সাধারণ জনগণকে উৎসাহিত করতে অর্থ সহায়তার পরিমাণ নতুন করে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তথ্য প্রদানকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে’।

হেভি ওয়েপনস (ভারী অস্ত্র) সর্বোচ্চ ২,০০,০০০ টাকা । পিস্তল, রিভলবার ও শটগান ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত। সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস শেল ও অন্যান্য ১০,০০০ – ২০,০০০ টাকা ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্রের বাতিলকৃত লাইসেন্স জমা পড়েনি, সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অবৈধ অস্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ যৌথ দল ইতোমধ্যে মাঠে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।

অপরাধ দমনে কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের পুলিশ প্রধানদের উদ্দেশ্যে কড়া আলটিমেটাম জারি করেন।

“সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ডেডলাইনের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ও অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকার দ্বিধা করবে না।” — সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) সরাসরি প্রশ্ন শোনেন এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা পর্যালোচনার পর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা ও বিশেষ ট্র্যাকিং অভিযানের ওপর জোর দেওয়া হয়।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। বক্তব্য প্রদান করেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।