‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: উদ্বেগের কিছু দেখছে না তেহরান

0
‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: উদ্বেগের কিছু দেখছে না তেহরান

বাংলাদেশ প্রতিবেদক: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে নিজেদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে না ইরান। একই সঙ্গে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়ে ঢাকা যেকোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতেও তেহরানের কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা জানান ইরানি রাষ্ট্রদূত।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৌশলগত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করে ড. জাহানাবাদি বলেন, “আমরা জানি বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। তাই নিরাপত্তা বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে ঢাকার যেকোনো সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে না।” তিনি আরও জানান, তেহরান ঢাকার সঙ্গে রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং স্থায়ী শান্তি-স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন।

সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি কোনো দেশের নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দিতে পারে না। এর বদলে আঞ্চলিক দেশগুলো এখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করছে। ‘মক্কা চুক্তি’কে এই অঞ্চলের দেশগুলোর বৃহত্তর কৌশলগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

গত ৭ আগস্ট যৌথ প্রতিরক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে যেকোনো এক দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে বাকিদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার শর্ত রয়েছে।

গত রবিবার সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকের পর তিনি জানান, এই চুক্তিতে যোগদানে বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকি দেখছে না; বরং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় দেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকেও এটিকে একটি ‘অনন্য ও নতুন সুযোগ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার তিনি স্পষ্ট করেন যে, চুক্তিতে যোগদানের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি বাংলাদেশ। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এবং সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা।