ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতি: দুই বছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড ৫৮.৮% প্রবৃদ্ধি

0
ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতি: দুই বছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড ৫৮.৮% প্রবৃদ্ধি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদকঃ দীর্ঘ অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) অভাবনীয় সাফল্য, নিয়ন্ত্রিত আমদানি নীতি এবং বাজারে ডলারের তারল্য বৃদ্ধির ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চমকপ্রদ উন্নতি হয়েছে। গত দুই বছরের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পুনর্গঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, মূলত দুই পদ্ধতির হিসাবেই রিজার্ভে দৃশ্যমান প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের গ্রস রিজার্ভ যেখানে ছিল ২,৪৮৬ কোটি মার্কিন ডলার, সেখানে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৬৪৪ কোটি ডলারে। অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ ৪৬.৬ শতাংশ বা প্রায় ১,১৫৮ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ ছিল ১,৯৮৬ কোটি ডলার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,১৫৩ কোটি ডলারে। এ হিসাবে দুই বছরে নিট রিজার্ভ বেড়েছে ৫৮.৮ শতাংশ বা প্রায় ১,১৬৭ কোটি ডলার।

২০২৪ সালের শুরুর দিকে তীব্র ডলার সংকট ও মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনীতি চরম চাপে পড়েছিল। তবে ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পাওয়া, বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে চাহিদার উদ্বৃত্ত ডলার কিনে নেওয়ায় রিজার্ভ দ্রুত পুনর্গঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সংকট কেটে গেছে। সরবরাহ বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পেরেছে।

এই অগ্রগতিকে ব্যবসায়ী ও বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য বড় ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “শক্তিশালী রিজার্ভ আমদানি দায় মেটানোর সক্ষমতায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং ও আস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে এই সুবাতাস বজায় রাখতে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিতে সতর্ক ব্যবস্থাপনা ধরে রাখতে হবে।”

পণ্য আমদানি বিল পরিশোধ ও অন্যান্য বৈশ্বিক বকেয়া মেটাতে মাঝেমধ্যে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সার্বিকভাবে বাংলাদেশ এখন স্বস্তিদায়ক অর্থনৈতিক অবস্থানে ফিরে এসেছে।