গৌরীপুর প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই অফিসে কর্মরত ৬১ জন সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রফিকুল ইসলাম গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদানের পর থেকেই স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেন। অফিস মোহরা আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে। শনিবার প্রয়োজনীয় তদন্ত ও বিচার দাবি করে প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে এ অভিযোগ দেন দলিল লেখকরা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনীয় দলিলপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও মনগড়া ও অহেতুক অজুহাতে দলিল রেজিস্ট্রি আটকে রেখে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করা হচ্ছে। নামজারি, পর্চা, ওয়ারিশান সনদপত্র, নামের করণিক ভুল কিংবা নামের বানান সংশোধনের এফিডেভিট সঠিক থাকার পরও বিভিন্ন অজুহাতে দলিল রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া এসব তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে দলিল লেখকদের লিখিত ও মৌখিকভাবে বহিষ্কারের অভিযোগও রয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের সামনেই দলিল লেখকদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়ও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারি আনুষঙ্গিক ফি ছাড়াও সর্বনিম্ন তিন লাখ টাকা মূল্যের একটি দলিলের জন্য ৩ হাজার ৪শ টাকা এবং তিন লাখ টাকার বেশি মূল্যের ক্ষেত্রে প্রতি লাখে ৪শ টাকা হারে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পিতা-মাতা ও দাদা-দাদীর নামে থাকা বিআরএস খতিয়ানভিত্তিক দলিলের জন্য প্রতি দলিলে ৩ হাজার টাকা এবং দাতার একাধিক নাম বা ‘ওরফে’ নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে প্রতি দলিলে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
গৌরীপুর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম হাচিবেশ শাহীদ মুন্সী বলেন, “মোঃ রফিকুল ইসলাম সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই দলিল করতে গিয়ে দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ অনৈতিক সুবিধা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে জমি রেজিস্ট্রি করতে অনাবশ্যক বিলম্ব করা হয় এবং দলিল লেখকদের অযথাই বহিষ্কার করা হয়।”
তিনি অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অফিস মোহরা আমিনুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দলিলের ক্ষেত্রে রাজস্ব খাতের বাইরে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে কেউ প্রোপাগান্ডা ছড়ালে কিছুই করার নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

