বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরকে অপরাধমুক্ত করতে চরম হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইয়ের সুনির্দিষ্ট অভিশাপ চিরতরে উপড়ে ফেলার অঙ্গীকার করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। এমনকি কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দও এখানে বরদাশত করা হবে না।”
শনিবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে আয়োজিত নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি প্রধান এসব কথা বলেন।
ছিনতাইকারী বা অপরাধীরা চাপাতি, ছুরি বা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে আত্মরক্ষা ও জননিরাপত্তায় পুলিশকে আইনগতভাবে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের স্পষ্ট বার্তা দেন কমিশনার।
রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোকে অপরাধীদের আস্তানা উল্লেখ করে কমিশনার রাতের বেলায় এসব গ্যারেজে সন্দেহভাজন কাউকে পেলেই তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি ।
এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ের বিরোধপূর্ণ ৫ কাঠা জমির আইনি জটিলতা নিরসন শেষে একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিটভিত্তিক তালিকা ধরে র্যাব ও ডিএমপি যৌথভাবে প্রতিদিন চিরুনি অভিযান পরিচালনা করবে।
ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন, বিগত তিন মাসের তুলনায় অপরাধের পরিসংখ্যানে মোহাম্মদপুরের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও কেবল কাগজে-কলমে সফলতা দেখে সন্তুষ্ট থাকার সুযোগ নেই। নাগরিাকদের চাওয়া অনুযায়ী শূন্যের কোঠায় অপরাধ নামিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য। তিনি স্বীকার করেন, অপরাধ দমনে পুলিশের কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ‘প্রচেষ্টার ঘাটতি’ রয়েছে, যা দ্রুত দূর করা হবে।
মোহাম্মদপুরের ৮টি বিটে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাদের আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে শতভাগ নির্মূল সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জনতার প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় শক্তি। পুলিশকে সাথে নিয়ে জনগণ এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তুললে কোনো অপরাধী টিকতে পারবে না।” এজন্য ওয়ার্ডভিত্তিক মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
উক্ত মতবিনিময় সভায় র্যাব মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গনি, র্যাব-২ অধিনায়ক নঈমুল হাসান, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

