
কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম চালের সরবরাহ কেন্দ্র কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকামে হঠাৎ করেই অসাধু চক্র ও মিলারদের মনগড়া মূল্যে অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। মোকামে পাইকারি পর্যায়ে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়ানোয় তার তীব্র প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ও সারা দেশের খুচরা বাজারে। খুচরা পর্যায়ে বাসমতি, মিনিকেট, কাজললতা, ব্রি-২৮, আটাইশ ও স্বর্ণা চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত লাফিয়ে বেড়েছে। এতে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ভোক্তারা।
মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ধানের হাটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজারে ধানের দাম নতুন করে বাড়েনি। মিনিকেট তৈরির সরু ধান মণপ্রতি ১,৩৫০ টাকা এবং বিনা-৭ জাতের ধান ১,০৪০ টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সাধারণ কৃষকদের কাছে ধান প্রায় শেষ। অভিযোগ উঠেছে, চালকল মালিকরা আগেই কম দামে বিপুল পরিমাণ ধান কিনে গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন এবং নিজেদের সুবিধামতো দর বাড়িয়ে মোটা অঙ্কের মুনাফা লুটছেন।
বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া পৌরবাজারে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মিলারদের দাম বাড়ানোর দোহায়ে খুচরা বিক্রেতারা চড়া দামে চাল বিক্রি করছেন।
মিনিকেট চাল: গত সপ্তাহে ২৫ কেজির বস্তা ছিল ১,৬২৫ টাকা; যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১২৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭৫০ টাকায় (কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধি)। খুচরা বাজারে ভালো মানের মিনিকেট ৭০ টাকা পর্যন্ত ছুঁয়েছে।
বাসমতি চাল: মিলগেটে ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮৮ টাকায়, আর খুচরা বাজারে ভোক্তারা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ৯০ টাকা কেজি দরে।
পৌরবাজারের চাল ব্যবসায়ী চাঁদ আলী বলেন, “মিলাররা গেটে দাম বাড়ালে আমাদের চড়া দামেই চাল কিনতে হয়। তারা দাম কমালে আমরাও কমাব।” বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি ও বাজার মনিটরিংয়ের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।
দাম বৃদ্ধির পেছনে খাজানগরের হযরত অটোরাইচ মিলের মালিক হযরত আলী ধানের বাড়তি দর ও সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে চাল শুকানো ব্যাহত হওয়াকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।
তবে চালের বাজারে এই অস্বাভাবিক অস্থিরতা বন্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌহিদ বিন হাসান। তিনি জানান, কোন কোন মিল মালিক বা সিন্ডিকেট বেআইনিভাবে দর বাড়াচ্ছে, তাদের তালিকা ও তথ্য সংগ্রহ চলছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে মিলগুলোতে সমন্বিত তদন্ত অভিযান চালানো হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসাথে অসাধু চাল ব্যবসায়ীদের গোপন তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
