
বাংলাদেশ প্রতিবেদক: ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলায় নিহত পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) নিরস্ত্র উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দ্রুততম সময়ে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর খাসকামরায় নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ দেখা করতে এলে তিনি উপস্থিত উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের এই কঠোর নির্দেশ দেন।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ ৪০ বছরের সততা, পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ এসআই আলতাফ হোসেনকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিহতের পরিবারের তাৎক্ষণিক সহায়তায় পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখা ও সম্প্রসারণের জন্য ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে তৈরি হওয়া স্থানীয় বিরোধ ও তুচ্ছ তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়েছিলেন দায়িত্বশীল এই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে সেখানে উগ্র সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন তিনি।
আত্মরক্ষার্থে আলতাফ হোসেন কাছেই অবস্থিত তাঁর বড় ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে সন্ত্রাসীরা রামদা, রড, জিআই পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠিসোটা নিয়ে ওই দোকানে চরম তাণ্ডব চালায়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত হন তাঁর ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম (২৪)। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সাভার থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম আসামিদের ধরতে অভিযান জোরদার করেছে।
মরহুম আলতাফ হোসেন ১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ডিএমপি, রাঙ্গামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় অত্যন্ত সুনাম ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে মৃত্যু অবধি তিনি এসবি, ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এবং দুই ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম (৩০) ও মো. আরিফুল ইসলামকে (২৪) রেখে গেছেন।
