‘ককটেল আতঙ্কে কাঁপল রাজধানী’: মালিবাগ থেকে যাত্রাবাড়ী থানায় ৭ ঘণ্টার ব্যবধানে ৪ স্থানে ৮ বিস্ফোরণ!

0
‘ককটেল আতঙ্কে কাঁপল রাজধানী’: মালিবাগ থেকে যাত্রাবাড়ী থানায় ৭ ঘণ্টার ব্যবধানে ৪ স্থানে ৮ বিস্ফোরণ!

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ  উচ্চ আদালতের রায় ও রাজনৈতিক উত্তাপের জের ধরে রাজধানী ঢাকায় আবারও ছড়ানো হচ্ছে ককটেল আতঙ্ক। মাত্র সাত ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীর ব্যস্ততম চারটি পৃথক পয়েন্টে পর পর আটটি শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জুমার পর মালিবাগ থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যায় রাজপথ কাঁপিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে যাত্রাবাড়ী থানা ভবন, মহাখালী ও আগারগাঁওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চালানো এই সিরিজ বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও নগরজুড়ে বিরাজ করছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও থমথমে ভাব।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজপথের নীরবতার সুযোগ নিয়ে ধাপে ধাপে এসব হামলার ছক সাজায় দুষ্কৃতকারীরা।

মালিবাগে প্রথম আঘাত (দুপুর ২:০০): জুমার নামাজের পরপরই ব্যস্ততম মালিবাগ ফরচুন শপিং মলের সামনে চলন্ত কোনো যানবাহন থেকে পর পর দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বিকট শব্দে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।

মহাখালী ও আগারগাঁওয়ে জোড়া হামলা (সন্ধ্যা ৬:০০): সন্ধ্যার মুখে মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন প্রধান সড়কে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ঠিক একই সময়ে নির্বাচন কমিশন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবনের কাছের প্রধান সড়কে বিকট শব্দে বিকট আরেকটি ককটেল ফাটে।

থানা প্রাঙ্গণে দুঃসাহসিক টার্গেট (সন্ধ্যা ৭:৪০): সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে যাত্রাবাড়ী থানার ঠিক প্রধান ফটকের সামনে। রাত পৌনে ৮টার দিকে থানা ভবনের গেট লক্ষ্য করে একের পর এক তিনটি ককটেল ছুড়ে মারে আততায়ীরা। বিকট শব্দে পুরো থানা এলাকা ও স্থানীয় জনপদ কেঁপে ওঠে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত হেভিওয়েট নেতার মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়। ওই রায় ঘোষণার পরপরই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির গেটে চলন্ত বাইক থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এর রেশ ধরে সেদিন রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও জগন্নাথ হল এলাকায় ককটেল ফাটিয়ে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিচারিক রায়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অসন্তোষ ও জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই সংগঠিত চক্রটি এই গেরিলা স্টাইলে ককটেল ফাটিয়ে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।

পর পর এসব বিস্ফোরণের ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যাত্রাবাড়ী, রমনা ও তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ ঘটনাস্থলগুলো থেকে স্প্লিন্টার উদ্ধার করেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, “আবাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা টার্গেট করে ঝটিকা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য। আমরা প্রতিটি স্পটের আশপাশের ট্রাফিক ও বাণিজ্যিক ভবনের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করছি। নাশকতার ছক সৃষ্টিকারী ও বহনকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”