‘স্কুল কমিটির দখল ও আধিপত্য বিস্তার’: খালিয়াজুরীতে বিএনপির দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ গেল তরুণের, আহত ২৮

0
‘স্কুল কমিটির দখল ও আধিপত্য বিস্তার’: খালিয়াজুরীতে বিএনপির দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণ গেল তরুণের, আহত ২৮

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার হাওরবেষ্টিত খালিয়াজুরীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নিয়ন্ত্রণ, জলমহাল ঘিরে ক্ষমতার দাপট ও দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দু’দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত শাহ আলমগীর (২৩) নামের এক তরুণ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া গ্রামটিতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নিহত আলমগীর। তিনি উপজেলার রানীচাপুর গ্রামের নূরুল হকের ছেলে এবং স্থানীয় শ্রমিক দল সমর্থিত পক্ষের অনুসারী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানীচাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দখল এবং এলাকার ইজারাকৃত জলমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপির দুটি পরাশক্তি মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। সংঘর্ষের এক পক্ষে নেতৃত্ব দেন চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমানের সমর্থকেরা, এবং অন্য পক্ষে ছিলেন একই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিগেল মিয়া ও তার বাবা উপজেলা কৃষক দল নেতা জালাল মিয়ার অনুসারীরা।

গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রানীচাপুর বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে প্রথম দফায় হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে রামদা, বল্লম ও ঢাল-সরকিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দিনভর থেমে থেমে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আলমগীরের মাথায় মারাত্মক জখম হয়।

সহিংসতায় আহত ২৮ জনের মধ্যে গুরুতর চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আলমগীরের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে রাতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে।

আলমগীরের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে রানীচাপুর ও আশপাশের এলাকায় মারাত্মক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা ও পাল্টা হামলা এড়াতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “স্কুল কমিটি ও স্থানীয় বিরোধ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে দুটি পাল্টা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে হত্যা মামলা যুক্ত করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে এলাকায় রাতভর অভিযান চালানো হচ্ছে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”