আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতে পুকুরে মাছ ধরার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

0
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতে পুকুরে মাছ ধরার অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা একটি পুকুর থেকে রাতের আঁধারে মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী আব্দুল হাকিমের দাবি, ইউএনওর উপস্থিতিতে উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের ভাগলপুর মৌজার চাতরা পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রহনপুর ইউনিয়নের ভাগলপুর মৌজায় অবস্থিত দাগ নম্বর ৬০৮-এর প্রায় ৩ দশমিক ৫৯ একর আয়তনের চাতরা পুকুরটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা নম্বর ১১/২০২৪। মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় পুকুরটির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগকারী আব্দুল হাকিম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে ওই পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন। তাঁর দাবি, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি পুকুরটির মাছ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরবর্তীতে পুকুরটি সরকারি ইজারার আওতায় নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

আব্দুল হাকিমের দাবি, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তাঁকে কোনো নোটিশ না দিয়ে রাতের আঁধারে পুকুর থেকে মাছ ধরার ঘটনা ঘটেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত রাতে ইউএনও জিল্লুর রহমানের উপস্থিতিতে পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা হয়েছে। প্রায় ৩০ মণ মাছ ধরে নেওয়া হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর পরও এমন ঘটনা ঘটায় আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

আব্দুল হাকিম আরও বলেন, “আমি বিএনপি পরিবারের সন্তান হয়েও আমার ওপর এমন জুলুমের শিকার হয়েছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”

এদিকে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় রাতের আঁধারে পুকুর থেকে মাছ ধরার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, আদালতের আদেশের বিষয়টি সঠিক হয়ে থাকলে তা অমান্য করে কোনো পক্ষেরই পুকুরের মাছ ধরার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।