এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির: সুন্দরবন উপকূল ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত টানা চার দিন থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। এতে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য ওঠানামা ও খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ ও আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত থেকে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের তীব্রতা কিছুটা বেড়ে যায়। ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মোংলা ও আশপাশের এলাকায় বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
মোংলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নেয়। ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ১২টার দিকে এটি সন্দ্বীপ ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি আরও দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে ভারতের ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে।
হারুন অর রশিদ বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ৪০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে তা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে আরও বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোংলা, পায়রা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
মোংলা বন্দরের হারবার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বন্দরের চ্যানেলের হারবাড়িয়া, বহির্নোঙর ও জেটি এলাকায় সার, ক্লিংকার ও মেশিনারিজসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এসব জাহাজে স্বাভাবিক গতিতে পণ্য খালাস ও বোঝাই কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে সাগর উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সুন্দরবনসংলগ্ন দুবলার চর এলাকার বিভিন্ন খাল ও অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিয়েছে। শত শত জেলে ও মাঝিমাল্লা বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
জেলেরা জানান, সাগরে ঢেউ ও বাতাস বেড়ে যাওয়ায় মাছ ধরার কার্যক্রম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই নিরাপত্তার জন্য ট্রলারগুলো উপকূলের নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
২১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে মোংলা ও সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার স্বাভাবিক জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা, যান চলাচলে ধীরগতি এবং দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের কাজেও প্রভাব পড়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী এক-দুই দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। পরে বৃষ্টিপাত কমে গেলে তাপমাত্রা আবার বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

