এমপি হান্নান মাসউদের ঘাড়ে ঘুষি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ : হাতিয়ায় বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি রণক্ষেত্র!

0
এমপি হান্নান মাসউদের ঘাড়ে ঘুষি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ : হাতিয়ায় বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি রণক্ষেত্র!

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ জাতীয় সংসদ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্যের জের ধরে বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে সংসদ সদস্য নিজের ঘাড়ে ঘুষি ও আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হাতিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির নিয়মিত সভায় যোগ দিতে সংসদ সদস্য মাসউদ উপস্থিত হলে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ ভবনে পৌঁছান সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তবে তাঁর আগমনের আগেই উপজেলা পরিষদের মূল ফটকে অবস্থান নিয়েছিলেন স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। এমপি মাসউদ গেটে পৌঁছানো মাত্রই তাঁর সঙ্গে থাকা এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমবেত নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুতই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলা চত্বরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এনসিপির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক শামসুদ্দিন তিবরিজ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত একটি হামলা। বিনা উসকানিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা আমাদের শান্তিকামী নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করেছে।”

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, “এমপি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বিএনপিকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে আসছেন। দল থেকে কোনো পূর্বনির্দেশনা ছিল না; কেবল এমপির দীর্ঘদিনের উগ্র আচরণ ও উসকানিতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ নেতাকর্মীরা সেখানে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।”

সংঘর্ষের বিষয়ে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিএনপির সশস্ত্র ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে হট্টগোল ও তাণ্ডব শুরু করে। হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার একপর্যায়ে বিএনপি ক্যাডারদের ছোঁড়া একটি সহিংস ঘুষি সরাসরি আমার ঘাড়ে এসে লাগে।” এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পরিস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, “উপজেলা পরিষদের মূল ফটকে দুই পক্ষের উপস্থিতি ছিল। সেখানে উচ্চবাচ্য ও চরম ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের সহায়তায় সংসদ সদস্যকে নিরাপদে সভাকক্ষে পৌঁছে দেওয়া হয়।”

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং উপজেলা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।