কলাপাড়া প্রতিবে : আদালতে বিচারাধীন এবং নিষেধাজ্ঞা থাকা জমি জবর দখলে সহযোগিতার অভিযোগে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি। এ বিষয়ে দলীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবুর রহমান টোটনের স্বাক্ষরিত নোটিশে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জেলা বিএনপির নোটিশে বলা হয়েছে, বিচারাধীন ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। বিরোধীয় জমি নিয়ে একতরফাভাবে বিচার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। নোটিশে আরও বলা হয়, বিচারাধীন ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের কার্যক্রম দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক আচরণ ও দলের ভাবমূর্তির পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিষয়টিকে গুরুতর উল্লেখ করে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এদিকে, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে জারী করা একটি নোটিশে জমি বিরোধ সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি বা বিচার কার্য পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দলীয় কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সাক্ষী ও প্রমাণাদিসহ উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে অনুপস্থিতিতেই অভিযোগের বিষয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
জেলা বিএনপির শোকজ নোটিশে এ ধরনের দলীয়ভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নোটিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দলের ভাবমূর্তির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।
জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মোঃ মতিউর রহমান হাওলাদারের লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তার জবাব পাওয়ার পর দলীয়ভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে নোটিশে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান বলেন, কুয়াকাটা পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষ প্রতিকার পেতে আমাদের কাছে আসে। তবে বিরোধীয় জমি নিয়ে মালা থাকার বিষয়টি তারা আমাদের না বলায় ভুল বোঝা বুঝির সৃষ্টি হয়েছে।

