বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পরকীয়া বা অনৈতিক সম্পর্কের গুজব ছড়ানোর মিথ্যা অভিযোগে এক কৃষকের ওপর প্রতিবেশীদের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের নির্মম হামলার শিকার হয়েছেন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মেরিনা খাতুন (৪৫)। হামলাকারীদের লাথিতে গুরুতর আহত ওই গর্ভবতী নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত সন্তান প্রসব করেছেন।
বর্বরোচিত এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী মজনু মিয়াসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহাড়) দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী শাহ আলী ফকির বাদী হয়ে ধুনট থানায় এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শাহ আলী ফকির উপজেলার দিদারপাড়া গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে এবং পেশায় একজন কৃষক।
স্থানীয় ও লিখিত অভিযোগ সূত্র জানায়, উপজেলার রাঙ্গামাটি গ্রামের বাসিন্দা হবিবর রহমানের ছেলে মজনু মিয়ার (৪৭) বিরুদ্ধে এক স্থানীয় প্রতিবেশীর সঙ্গে অনৈতিক বা অনভিপ্রেত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার গুঞ্জন তৈরি হয়। এ নিয়ে গ্রামে তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে মজনু বিষয়টি ঢাকতে এটিকে স্রেফ ‘গুজব’ বলে দাবি করতে থাকেন। একই সাথে তিনি সন্দেহ করেন, প্রতিবেশী কৃষক শাহ আলী ফকিরই লোকমুখে এই কথা ছড়িয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) দুপুর আনুমানিক সাড় ১২টার দিকে শাহ আলী ফকিরের ওপর চড়াও হন মজনু মিয়া। তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হলে শাহ আলী প্রতিবাদ জানান। এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে মজনু মিয়া ও তার সহযোগীরা লাঠিসোটা নিয়ে শাহ আলীর ওপর অতর্কিত ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ হামলা চালায়।
ঘটনার আকস্মিকতায় নিজের স্বামীকে রক্ষায় দ্রুত এগিয়ে আসেন শাহ আলীর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মেরিনা খাতুন। স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মেরিনা খাতুন বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাকেও ছাড় দেয়নি। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি তোয়াক্কা না করে সরাসরি তার পেটে সজোরে লাথি মারে এবং বেধড়ক পেটায়।
হামলায় মেরিনা খাতুন রক্তাত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একই সাথে আহত হন স্বামী শাহ আলীও। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেরিনা খাতুনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। পরে শজিমেক হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শারীরিক মারাত্মক আঘাতের কারণে মেরিনা খাতুন গর্ভপাতের শিকার হন এবং এক মৃত সন্তান প্রসব করেন। নবজাতক হারানোর খবরে ভুক্তভোগী পরিবারটিতে এখন শোকের মাতম চলছে।
নৃশংস এই ঘটনার পর থেকে প্রধান অভিযুক্ত মজনু মিয়া ও তার সহযোগীরা গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও হৃদয়বিদারক। স্বামীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরই ইতিমধ্যে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্তের জন্য থানার এক উপপরিদর্শককে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

