ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বালুভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি সড়কের ওপর উল্টে গিয়ে চালকসহ ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একটি প্রাইভেটকার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক বালু ও ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের মা ও শিশু সন্তান রয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতের স্বামী গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা নামক স্থানে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুমি বেগম (৩২), তার সাত বছর বয়সী শিশুপুত্র শাওন এবং ইজিবাইকচালক বোয়ালমারী উপজেলার হাসান (৩০)।
দুর্ঘটনায় সুমি বেগমের স্বামী পলাশ (৩৮) মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুর শহর থেকে বালু বোঝাই করে একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে কানাইপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের তেঁতুলতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রতগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকটির বিকট শব্দে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাকের একটি চাকা হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বালুভর্তি বিশালাকার ট্রাকটি মহাসড়কের ওপর আছড়ে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ভাগ্যবশত, ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে চলে আসা একটি প্রাইভেটকার ও একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক উল্টে যাওয়া ট্রাক ও ছিটকে পড়া বালুর স্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
চাপায় ইজিবাইকটি একেবারে গুঁড়িয়ে যায় এবং প্রাইভেটকারের সামনের ও একপাশের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়েমুচড়ে কঙ্কালসারে পরিণত হয়।
দুর্ঘটনার পর পরই মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতা দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে করিমপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্তূপীকৃত বালু সরিয়ে ক্ষতবিক্ষত ইজিবাইক থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ভারী ক্রেন এনে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রাক ও প্রাইভেটকার সরিয়ে ভেতর থেকে আরও একজনকে উদ্ধার করা হয়।
আহত চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা-ছেলেসহ তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সালাম জানান, “বাসের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রাকের চাকা ব্লাস্ট হওয়ার কারণে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইক ও প্রাইভেটকারকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনজনের মৃত্যু ঘটে।”
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলোকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে করিমপুর হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে এবং মহাসড়কে এখন যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক বাস ও ট্রাকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। স্বজনদের আবেদনের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

