স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৪ দফা দাবি, ৩০ অক্টোবর শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভের ডাক

0
স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৪ দফা দাবি, ৩০ অক্টোবর শাহবাগে এনসিপির গণবিক্ষোভের ডাক

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকটের মতো সার্বিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগসহ ৪ দফা দাবিতে রাজপথে কড়া আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

আগামী ৩০ অক্টোবর (শুক্রবার) রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার শাহবাগ মোড়ে বড় আকারের ‘গণবিক্ষোভ’ কর্মসূচির চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মোড়ে এনসিপি ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী দেশব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমঅবনতি রোধ, অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাসমূহে ক্রমাগত দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এনসিপি তাদের ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এই দাবিনামা জনসমক্ষে তুলে ধরতে দলটি সপ্তাহব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ ও পথসভার সূচনা করেছে।

গণসংযোগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি আপামর জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।”

বর্তমান মন্ত্রিসভার তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “বিগত সাত মাস ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তিনি কীভাবে সংবিধান কাটাছেঁড়া করবেন—তা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন, যাতে ফ্যাসিবাদী কায়দায় জনগণের মতামতকে স্থায়ীভাবে স্তব্ধ করা যায়। জনগণের নিরাপত্তার সুরক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এই পদে থাকার আর কোনো নৈতিক অধিকার অবশিষ্ট নেই।”

জ্বালানিমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও যোগ করেন, “সাত মাস পার হলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অচলাবস্থা কাটাতে সরকার কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী এখন পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তাকে কথা বলতেও দেখা যায় না। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, আপাতত এই দুই অপদার্থ মন্ত্রীকে অপসারণ করে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করতে হবে। এর আগে তথ্যমন্ত্রীসহ কয়েকজনকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সরানো হয়েছে, কিন্তু দায়িত্ব পালনে যারা সবচেয়ে বেশি অবহেলা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন, তাদের বিষয়ে সরকার রহস্যজনক নীরবতা বজায় রাখছে।”

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বেশ কিছু উদ্বেগজনক তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করলেই সাংবাদিকদের ওপর আঘাত নেমে আসছে। গত ১৫ অক্টোবর নেত্রকোনায় প্রকাশ্যে এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং এর পরদিনই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আরও এক সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ এলাকা কক্সবাজারে গত ১৯ অক্টোবর বিভিন্ন মহাসড়কে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনে একযোগে ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডায় সন্ত্রাসী হামলা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চত্বরে সালমান ইত্যাদি স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর ঘটনা ঘটে।

এনসিপির তথ্যমতে, গত ৯ মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে অন্তত ১১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে ৮৭ জন জনপ্রতিনিধি নিহত হয়েছেন এবং ৬৩৭ জন নারী নির্মম ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করার অপরাধে এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুরনো ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’-এর মতো বিতর্কিত কালো আইনকে আরও মারাত্মক দমনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইনে রূপান্তরের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।

কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত এই গণসংযোগ কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, ৩০ অক্টোবরের শাহবাগের গণবিক্ষোভ হবে সরকারের গণবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত বার্তা। তিনি দল-মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর জোর আহ্বান জানান।