‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে সরকার, ফের স্বৈরশাসন চাপাতে চায়’: জাজিরার পথসভায় শফিকুর রহমান

0
‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে সরকার, ফের স্বৈরশাসন চাপাতে চায়’: জাজিরার পথসভায় শফিকুর রহমান

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ জনগণের পবিত্র ভোটের রায় ও ঐতিহাসিক গণরায়কে অগ্রাহ্য করে বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা ও ধোঁকাবাজি করছে বলে কঠোর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের আপামর জনসাধারণ ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে খালি বুকে গুলি নিয়েছে; সুতরাং এই জাতি কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না। জনগণের কাঁধে আবারও কোনো ধরনের স্বৈরশাসন চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত এ দেশের জনগণ সফল হতে দেবে না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়ামুখী ঐতিহাসিক লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, “জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে রায় দিয়েছে, অথচ সরকার সেই রায় মানছে না। তারা জনগণকে অপমান করছে, ডাহা মিথ্যাচার ও প্রতারণা করছে। আমরা সরকারের এই অনৈতিক অবস্থান কোনোভাবেই মেনে নেব না।”

সংবিধান সংস্কারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত সাত দফা দাবি প্রসঙ্গে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা কথা দিচ্ছি, দেশের জনগণ যদি আমাদের সঙ্গে থাকে, তবে সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে এই সাত দফা দাবি আমরা বাস্তবায়ন করবই, ইনশাআল্লাহ। আমাদের এই সাত দফা দাবির তালিকার সবার ওপরে রয়েছে জুলাই বিপ্লবের স্পিরিট ও গণভোটের গণরায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন।”

নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা সবসময় শক্ত থাকবেন এবং আমাদের সঙ্গে থাকবেন। রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায় করা হবে।”

এর আগে শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার দিকে শত শত গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চের গাড়ি বহরটি খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে বিভিন্ন পয়েন্টে সংবর্ধনা ও পথসভায় অংশ নেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

নাওডোবার পথসভায় ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার (সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) মাওলানা মামুনুল হক (আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ (মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)সহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

লংমার্চের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরা ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের ঐতিহাসিক গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা। জুলাই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও কৃষিভিত্তিক সারের তীব্র সংকট নিরসন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি কঠোরভাবে রোধ করা। ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নয়ন করা। প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ চিরতরে বন্ধ করা। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং সকল প্রকার দখলদারিত্বের রাজনীতি উচ্ছেদ করা।

দক্ষিণ জনপদের অভিমুখে চলা ১১ দলের এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।