
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ রাজধানীর দারুসসালামের দিয়াবাড়ি কাঁচাবাজারের ফলের আড়তে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা বিরোধ রূপ নিয়েছে রক্তক্ষয়ী রণক্ষেত্রে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে চরম আতঙ্কে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা, মুহূর্তের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় বাজারের স্বাভাবিক বেচাকেনা।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে একটি চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন জানান, গত ২৮ অক্টোবর বাজারের ভ্যানগাড়ি থেকে অনিয়মতান্ত্রিক চাঁদাবাজির বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। শুক্রবার দুপুরে সেই অভিযোগের সরেজমিন তদন্তে দারুসসালাম থানার একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দিয়াবাড়ি কাঁচাবাজারে যান।
তদন্ত কাজ চলাকালেই শাহ আলী থানা কৃষক দলের সভাপতি জহির ও সাধারণ সম্পাদক লিটনের নেতৃত্বে একটি মিছিল ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতেই জহির ও লিটনের সমর্থকেরা হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ফলের আড়তের সভাপতি ও বিএনপি নেতা জামাল এবং তাঁর কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলার পরপরই জামালের অনুসারীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ায় পুরো দিয়াবাড়ি কাঁচাবাজার এলাকায় থমথমে অবস্থা তৈরি হয়।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, এই সংঘর্ষ মূলত দুটি শীর্ষ নেতার বলয়কে কেন্দ্র করে ঘটেছে।
এক পক্ষে: বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা সোলায়মান দেওয়ান ও এসএ সিদ্দিকী সাজুর অনুসারী শাহ আলী থানা কৃষক দলের সভাপতি জহির ও সাধারণ সম্পাদক লিটনের দল।
অন্য পক্ষে: দিয়াবাড়ি কাঁচাবাজারের ফলের আড়তের সভাপতি বিএনপি নেতা জামাল ও তাঁর অনুসারী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কাঁচাবাজারের কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও আড়ত ব্যবস্থাপনার একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্যই দীর্ঘদিন ধরে এই হুমকি-ধামকি ও উত্তেজনা চলছিল। পুলিশের উপস্থিতিতেই এমন সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার ঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দারুসসালাম থানার ওসি দুলাল হোসেন জানান, বর্তমানে ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়ানো চিহ্নিত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
