অবশেষে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগে রংপুরে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের গ্রেফতার

0
অবশেষে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগে রংপুরে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের গ্রেফতার

জয়নাল আবেদীন: অবশেষে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগে রংপুরের আলোচিত একটি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার সহ অটোরিক্সাটি উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ।পুলিশ জানায় গত ২১ ফেব্রুয়ারী রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের উত্তরপাড়া পাঁচঘরিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের আম বাগানে রংপুর নগরীর কেরানীপাড়ার আলম মিয়ার ছেলে হাফিজুর রহমানের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় এই হত্যাকান্ডটি নগরিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যসৃষ্টি করে । এরপর থানায় মামলা হলে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কিন্তু মামলাটির কোন অগ্রগতি না হওয়ায় গত ২১ জুন পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমারের নির্দেশে হত্যা মামলাটি স্থানান্তর করা হয় জেলা গোয়েন্দা শাখায়। গোয়েন্দা বিভাগের এসআই মনিরুজ্জামান তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামী রংপুর নগরীর সাতগাড়া সবুজপাড়ার ফরহাদ হোসেন, দূর্গাপুর বড়বাড়ির জাহাঙ্গীর আলম ওরফে কলক, অটোরিক্সা ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত গুড়াতিপাড়ার সাজেদুল ইসলাম সাজু, মিঠাপুকুর ভাংনী বাজারের মোঃ সুলতান মিয়া এবং সংগ্রামপুরের সোহেল রানা ওরফে বাবুকে গ্রেফতার করে। সেই সাথে রংপুর নগরীরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই যাওয়া অটোরিক্সাটিও উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ। হাফিজুর রহমান হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ৫ আসামী রংপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মিঠাপুকুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ফজলে এলাহীর কাছে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবাবন্দী দেন। হত্যাকান্ডের ঘটনা বর্ণনায় আসামীরা বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারী ফরহাদ, সুলতান ও কলক ৩ বন্ধু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে যান। এক পর্যায়ে তারা অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যান। সেখানে হাফিজুরের অটোরিক্সায় করে রংপুর নগরী থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে মিঠাপুকুর খোড়াগাছ ইউনিয়নের নির্জন জায়গায় যায়। পথের মধ্যে তারা হাফিজুরকে অবচেতন করার জন্য গোপনে কোমল পানীয়র সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে খাইয়ে দেয়। এতে হাফিজুর কিছুটা দূর্বল হয়ে পড়ে। খোড়াগাছ ইউনিয়নের নির্জন রাস্তায় চার্জার অটো রেখে তারা হাফিজুরকে পার্শ্ববর্তী আমবাগানে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করে অটো ছিনতাই করে।রংপুর জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করার পর আমরা দ্রততার সাথে মামলাটি নিস্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছি।