ভূঞাপুরে নৌকা-বিদ্রোহী প্রার্থী সমর্থকদের সংঘর্ষ: আহত ১৫, আতঙ্কে এলাকাবাসী

0

আব্দুল লতিফ তালুকদার: আসন্ন ২৬ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌকার মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও নিকরাইল ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদের আনারস প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১২ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার দুপুরে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের মাটিকাটা, ল্যাংড়া বাজার ও সিরাজকান্দি বাজার এলাকা দফায় দাফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো ইউনিয়নজুড়ে সাধারণদের ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে ভূঞাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে, বিশৃখলা এড়াতে দুপুর থেকেই পুলিশ সদস্যরা টহল জোরদার করছেন। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ থমথমে বিরাজ করছে। জানা যায়, মাটিকাটা বাজারে আওয়ামী লীগের কর্মীদের নির্বাচনী ভোট প্রার্থনার সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মতিন সরকারের কর্মী ও ৯নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন (৩৮) গুরুত্বর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেলটিকেও ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। এরপর আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মতিন সরকার থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এছাড়াও সিরাজকান্দি বাজারের কাছে সোলাইমান ফিডস্ধসঢ়; লি: কারখানা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন মতিন সরকারে কর্মী আব্দুল বাছেদ। তিনি বলেন- আমার কারখানায় থাকা ৪ টি ট্রাক ও অফিস রুম ভাঙচুর করা হয়। এদিকে, ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা ও নৌকা সমর্থক আব্দুল আব্দুল করিম মেম্বার জানান- আমার বালু ঘাটের কাউন্টার ঘর ভাঙচুর ও হামলা চালিয়ে ৩ লাখ টাকা লুটপাট করেছেন আ’লীগের বিদ্রোহী ও আনারস প্রতীকের প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদের নেতা-কর্মীরা। চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মতিন সরকার বলেন, বুধবার দুপুরে কোনাবাড়ী ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেনসহ আমাদের কর্মীরা মাটিকাটা বাজারে চা-স্টলে বসে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছিল। এসময় বিদ্রেহী প্রার্থীর ভাই রকিব, ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ, নুহু মেম্বারের নেতৃত্বে জুরান মন্ডল, তার দুই ছেলে সুমন ও শুভসহ অন্যান্যরা আমাদের কর্মীর উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় ছানোয়ার হোসেন গুরুত্বর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মৌখিক অভিযোগ দিয়েছি। চেয়ারম্যান প্রার্থী মতিন সরকারের নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়টি অস্বীকার করে আ’লীগের বিদ্রোহী (আনারস) প্রতীকের প্রার্থী মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, নৌকার কর্মী সমর্থকরাই আমার কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। এতে করে ৩ থেকে ৪ জন আহত হয়েছে। আমার কর্মীরা তাদের উপর হামলা চালায়নি। তিনি আরও বলেন- নৌকার সমর্থকরা আনারস প্রতীকের পোস্টার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছেন ও কোথায়ও পোস্টার সাটাতে দিচ্ছেন না।

এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওহাব জানান, বুধবার দুপুরে নিকরাইলে আ’লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থী কর্মী সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এছাড়াও দুই প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনকালীন সময় যাতে আর কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে তাদের সাথে মত বিনিময় করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশৃঙ্খলা যাতে না করেন এ নিয়ে তাদেরকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।