বিশেষ সুরক্ষা বলয় থেকে সাধারণ নাগরিকে ড. ইউনূস: ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ কমলো অর্ধেক

0
বিশেষ সুরক্ষা বলয় থেকে সাধারণ নাগরিকে ড. ইউনূস: ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ কমলো অর্ধেক

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য নির্ধারিত বিশেষ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও ভিভিআইপি (VVIP) নিরাপত্তার সময়সীমা বড় আকারে ছাঁটাই করেছে বর্তমান সরকার। পূর্বঘোষিত এক বছরের পরিবর্তে এই সুবিধার মেয়াদ কমিয়ে মাত্র ছয় মাস করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ১০ আগস্টের পর থেকে ড. ইউনূস আর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী বা এসএসএফ-এর (SSF) সুরক্ষা পাবেন না। এরপর থেকে তিনি দেশের একজন সাধারণ নাগরিকের মর্যাদায় চলবেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র কয়েক দিন আগে নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করে একটি বিশেষ গেজেট জারি করেছিলেন। তবে সেই গেজেট নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা ছিল।

২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এক বছরের জন্য ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।

সাধারণত সরকারের যাবতীয় গেজেট বিজি প্রেসের ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু ড. ইউনূসের এই বিশেষ সুবিধার গেজেটটি বর্তমানে সরকারি সার্ভার বা ওয়েবসাইটে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনায় এই মেয়াদ ছয় মাস কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ১০ আগস্ট চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে।

‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী ড. ইউনূস বর্তমানে যে রাজকীয় সুবিধাগুলো ভোগ করছেন, তা আগস্টের পর বন্ধ হয়ে যাবে:

বর্তমানে তার বাসভবন ও কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকা এসএসএফ সদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে। বিদেশ সফরের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে যে বিশেষ প্রটোকল ও নিরাপত্তা সমন্বয় করা হয়, ১০ আগস্টের পর থেকে তিনি আর সেই সুবিধা পাবেন না। তার উপস্থিতিতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠানে যে ধরনের বিশেষ নিরাপত্তা তল্লাশি ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হতো, তার অবসান ঘটবে।

ড. ইউনূসের ১৮ মাসের দায়িত্বকাল নিয়ে বর্তমানে নানামুখী বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে:

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতায় এসেই ড. ইউনূস তার নিজের ও ‘গ্রামীণ’ পরিবারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতি ও কর ফাঁকির সব মামলা সরকারি হস্তক্ষেপে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন।

ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত এবং তার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কোটি টাকার কর বেআইনিভাবে মওকুফ করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বিশাল ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে।

অর্থনীতিবিদদের অভিযোগ, তার শাসনামলে দেশের শিল্প ও আর্থিক খাতগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এছাড়া প্রভাবশালী বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে এমন কিছু গোপন ও বিতর্কিত চুক্তি করা হয়েছে, যেগুলোকে সমালোচকরা ‘গোলামি চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

ড. ইউনূস সরকারের উপদেষ্টাদের ভুল নীতি বা ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া হয়ে গেছে বলে তথ্য উঠে আসছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন। প্রায় দেড় বছর দেশ পরিচালনার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ত্যাগ করেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের মাধ্যমেই তার সরকারের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটে।

১০ আগস্টের পর ড. ইউনূসের নিরাপত্তা বা চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ প্রটোকল না রাখার সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।