যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন: লাশ গুমের উপায় খুঁজতে ‘এআই’ ব্যবহার করেছিলেন খুনি!

0
যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন: লাশ গুমের উপায় খুঁজতে ‘এআই’ ব্যবহার করেছিলেন খুনি!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী—জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে যুক্ত হয়েছে নতুন এক ভয়াবহ মাত্রা। মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়া লাশ গুমের পদ্ধতি জানতে এবং পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’ (ChatGPT)-র সাহায্য নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আদালতে দাখিল করা রাষ্ট্রপক্ষের নথি অনুযায়ী, হিশাম আবুগারবিয়া হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে বেশ কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে এআই-এর কাছে অনুসন্ধান চালান। তদন্তকারীরা তার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট থেকে জানতে পেরেছেন: হিশাম প্রশ্ন করেছিলেন— “একজন মানুষকে কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেললে কী হয়?” জবাবে চ্যাটবট তাকে সতর্ক করে জানায় যে, এটি একটি বিপজ্জনক কাজ। ঘটনার তিন দিন আগে তিনি পুনরায় জানতে চেয়েছিলেন— “কীভাবে তারা (তদন্তকারীরা) বিষয়টি জানতে পারবে?”

গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (USF) দুই মেধাবী শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। এর কিছুদিন পর ফ্লোরিডার একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তে উঠে আসা মূল তথ্যসমূহ হল, অভিযুক্ত হিশাম ছিলেন নিহত লিমনের রুমমেট এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। হিশামের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে রক্তমাখা কাপড়, বড় ময়লার ব্যাগ, জীবাণুনাশক ক্লিনজার এবং নিখোঁজ বৃষ্টির ব্যক্তিগত জিনিসপত্র জব্দ করেছে পুলিশ। শুরুতে হিশাম দাবি করেছিলেন তিনি তাদের ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় নামিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেই এলাকায় তল্লাশি চালিয়েই লিমনের মরদেহের অংশ খুঁজে পায়।

নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যু নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা থাকলেও তদন্তকারীরা নিশ্চিত তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার (২২ মাইল) দূরে আরেকটি মানবদেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়া গেছে। এটি বৃষ্টির কি না, তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার সাহায্য নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মামলার প্রসিকিউটররা আদালতে জোর দিয়ে বলেছেন, অভিযুক্ত হিশাম অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড ও পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে প্রমাণ অত্যন্ত জোরালো। এআই ব্যবহার করে লাশ গুমের চেষ্টার বিষয়টি অপরাধের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং অভিযুক্তের পালানোর ঝুঁকি এড়াতে তার জামিন আবেদন নাকচ করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, ওপেনএআই (OpenAI) কর্তৃপক্ষ এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এই ঘটনায় গভীর শোক ও বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আদালতের তদন্ত নথি ও ফ্লোরিডা পুলিশ বিভাগ।