অতুল পাল: বাউফলে ছাত্রলীগের অনুমোদনকৃত কমিটির শো-ডাউনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেল থেকে এখনো পর্যন্ত বাউফল পৌর শহরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সদ্য অনুমোদনকৃত সভাপতি আল আমিন তোহা ও সাধারন সম্পাদক তানজিল হোসেন অভির নেতৃত্বে শুক্রবার বিকেলে বাউফল পৌর শহরে শো-ডাউনে নামে। শো- ডাউনটি বাউফল থানার গেটের সামনে গেলে ছাত্রলীগের অপর গ্রুপের সাধারন সম্পাদক মাহামুদ রাহাত জামশেদ তার অনুসারিদের নিয়ে বাধা দেয় এবং কয়েকটি মটর সাইকেল ছিনিয়ে নেয়। উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ শনিবার বেলা ১০ টার দিকে সদ্য অনুমোদনকৃত কমিটির নেতৃত্বে শোক র্যালি নামানো হয়। র্যালিটি পৌর শহরের কুন্ডপট্টি অতিক্রম করলে আবারো উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয় শুরু হয় এবং দুই পক্ষই মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এ সময়ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং র্যালিটি সামনে এগুতো না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। পরে তারা ইলিশ চত্তরে গিয়ে পথসভা করে। এদিকে এসময় অপর পক্ষ কুন্ড পট্টিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগের পৌর কার্যালয়ে শোক দিবসের আলোচনা সভার ডাক দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের নব-গঠিত কমিটির সভাপতি আল আমিন তোহা ও সাধারন সম্পাদক তানজিল হোসেন অভির নেতৃত্বে নাজিরপুরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে ৪০- ৫০টি মটর সাইকেল নিয়ে শো-ডাউন দিয়ে শহরের ফারুক ইঞ্জিনিয়ার মহিলা কলেজ সড়ক হয়ে থানার সামনে এসে পৌঁছালে ছাত্রলীগের অপর গ্রুপের সাধারন সম্পাদক মাহমুদ রাহাদ জামসেদের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী তাদের শো- ডাউনে বাধা দেয় এবং ৮ টি মটর সাইকেল ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রলীগের তোহা-অভি গ্রুপের কয়েক শত নেতাকর্মী থানার সামনে প্রায় এক ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সড়ক অবেরোধ তুলে নেয়া হয়। শনিবারও উভয় গ্রুপের দেয়া কর্মসূচী র্যালি ও আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে পৌ শহরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। সাধারন মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়। এরপ্রভাব পরে ঈদ বাজারে। নবগঠিত ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন তোহা বলেন, ২৮ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে জেলা ছাত্রলীগ আমাকে সভাপতি ও তানজিল হোসেন অভিকে সাধারন সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষনা করেন। শুক্রবার বিকালে ওই কমিটির নেতৃত্বে শো-ডাউন করা হলে জামসেদের নেতৃত্বে বাধা দেয়া হয় এবং ৮টি
মটর সাইকেল ছিনিয়ে নেয়। অপরদিকে ছাত্রলীগের অপর গ্রুপের সাধারন সম্পাদক মাহমুদ রাহাদ জামসেদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাত্রলীগের ওই কমিটি বৈধ নয়। জেলা কমিটির দফতর সম্পাদক আসাদুুল ইসলাম ১ আগস্ট এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগের তোহা ও অভির কমিটি অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। উল্লেখ্য, বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ সাবেক চীফ হুইপ এবং বর্তমান এমপি আ.স.ম. ফিরোজ অনুসারি এবং অপর অংশ পৌরসভার মেয়র ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েলের অনুসারি।
এব্যপারে বাউফল পৌরসভার মেয়র মোঃ জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক আমাকে জানিয়েছেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ধার্য্য রয়েছে। এর আগে কমিটি অনুমোদনের কোন সুযোগ নেই। বাউফলের এমপি সাবেক চিফ হুইপ ও জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি আ.স.ম. ফিরোজ বলেন, আমার সাথে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সাথে কথা হয়েছে, তিনি বলেছেন, তোহা ও অভির কমিটি বৈধ। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবেই তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোন ভাবেই কোন ধরণের অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটানোর সুযোগ দেয়া হবে না।

