বাংলাদেশ প্রতিবেদক: রাজধানী সংলগ্ন প্রায় সাড়ে ৭ লাখ ভোটারের ও তিনটি সংসদীয় আসনের গুরুত্বপূর্ণ সাভার উপজেলা নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচিত হওয়ার পথে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব। ভোটগ্রহণ শেষ হলে শুধু বেসরকারিভাবে ঘোষণা হবে। তবে এবার পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের ছিলো না তেমন কোনো প্রচার প্রচারণা। ফলে এ উপজেলায় নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ভোট দেয়ার কোনো আগ্রহও লক্ষ্য করা যায়নি। নেই কোনো ভোটের আমেজ।
সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে ভোটারদের তেমন একটা উপস্থিতি নেই। সকাল ১০টার দিকে সাভারের আশুলিয়ার ডেন্ডাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দুজন আনসার সদস্য মোবাইল ফোনে লুডু খেলছেন। এদের মধ্যে একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দুঘণ্টায় একটি ভোটও পড়েনি। তাই লুডু খেলে কিছুটা সময় পার করছি।’
এ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার ওসমান গনী জানান, কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ৪৫ জন। সকাল ১০টা পর্যন্ত ভোটবাক্সে একটি ভোটও পড়েনি।
দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে সাভারের রাজফুলবাড়য়িা বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন আল জামিয়াতুল মাদানীয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ১ হাজার ৮১৩ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ১৮টি। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং আফিসার পীযুষ কান্তি সরকার সমকালকে জানান, এ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। নেই বললেই চলে। ১ হাজার ৮১৩ ভোটারের মধ্যে ১৮টি ভোট পড়ছে।
সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পৌর এলাকার গেন্ডা অর্নিবাণ কেন্দ্রে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রটিতেও ভোটারের উপস্থিতি ছিল না।
এ ছাড়া সকালে উপজেলার চাকলাদার মহিলা কলেজ, সাভার সরকারি কলেজ, বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, এসব কেন্দ্রগুলো অধিকাংশই ভোটারশূন্য। এসব কেন্দ্রের কোনোটিতেই ভোটারদের কোনো লাইন দেখা যায়নি।
কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, সকাল থেকেই ভোটারদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাননি তারা। ভোটার সংখ্যা কম থাকায় অনেকটা অলস সময় পার করেছেন কেন্দ্রগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্টসহ অন্যান্যরা।
এদিকে স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, মূলত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মূল আকর্ষণ ‘চেয়ারম্যান’ পদে এবারও বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় মঞ্জরুল আলম রাজীব নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ নেই। এজন্যই ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি নেই।
দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সাভারে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

