মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি : নারী বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের প্রতি সমাজ ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল আচরণ করলে তাদের পুনরুদ্ধার ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসী ও বিদেশ-ফেরত নারীদের সুরক্ষা, সম্মান ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিয়োগ সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) মাদারীপুর জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের সভাকক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটির উদ্দেশ্য ছিল বিদেশ-ফেরত নারী ও শিশু অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি।
জেলা প্রশাসক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ-ফেরতদের আইনি সেবা দিতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। তিনি আরও বলেন, সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সচেতনতা বাড়লে নারী বিদেশ-ফেরত অভিবাসীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা শিশু পাচার রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্র্যাক ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর মিতু রানী দেবনাথের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, দালালের প্রলোভনে না পড়ে নিয়ম মেনে ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিদেশে যেতে হবে। বিদেশ যাওয়ার সময় সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মানব পাচার ও প্রতারণার ঘটনায় মামলা করার পাশাপাশি উপযুক্ত প্রমাণ ও সাক্ষ্য নিশ্চিত না হলে অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন নারী বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শারমিন শাহিন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) উম্মে হাবিবা, সমাজসেবা অফিসার মো. জাবেদ হোসেন, টিটিসির অধ্যক্ষ মো. সানজিদ শাহরিয়ার, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. শরীফুল হক এবং মাদারীপুর জজ কোর্টের আইনজীবী এম ডি এনামুল হক।
এ সময় জর্ডান-ফেরত অভিবাসী ও ‘অদম্য নারী’ পুরস্কারপ্রাপ্ত রোজিনা বেগম এবং শিল্পী আক্তার প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের আওতায় মনোসামাজিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণ সেবা পাওয়ার পর কীভাবে তারা নতুন করে জীবন গড়ে তুলেছেন, সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর শাহিনা আক্তার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র অফিসার তানজিনা সুলতানা সেজুঁতি এবং কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন রিজিওনাল এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর দেবানন্দ মন্ডল।
কর্মশালায় বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, বিদেশ-ফেরত অভিবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

