চট্টগ্রাম-পার্বত্য অঞ্চলে ধানের শীষের প্লাবন: ২৩ আসনের ২১টিতেই জয়, ধরাশায়ী হেভিওয়েটরা

0
দীর্ঘদিনের আসন পুনরুদ্ধার করতে পারল না বিএনপি, দলীয় বিভাজন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ ও সংকটে কেশবপুরে বিএনপির পরাজয়

হাবিবুর রহমানঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্র একতরফাভাবে বদলে গেছে। চট্টগ্রাম জেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার মোট ২৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২১টিতেই বিপুল জয় পেয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করলেও পেয়েছে মাত্র ২টি আসন। এই অঞ্চলে বিএনপি জোটের শরিক দলগুলোর হেভিওয়েট নেতারা ধরাশায়ী হয়েছেন, যার মধ্যে এলডিপি প্রধান কর্নেল অলির পুত্র এবং জামায়াতের সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদের পরাজয় সবচেয়ে আলোচিত।

চট্টগ্রাম জেলা: আমীর খসরুর রাজকীয় জয়, আসলাম চৌধুরীর ফল স্থগিত

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে ধানের শীষের প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

বিশাল জয়: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

ফলাফল স্থগিত: চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন থেকে বিএনপির হেভিওয়েট নেতা আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) থেকে জয়ী সরওয়ার আলমগীরের ফলাফল ঋণখেলাপী সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় স্থগিত রাখা হয়েছে।

জামায়াতের জয়: চট্টগ্রামের মাত্র ২টি আসনে (চট্টগ্রাম-১৫ ও চট্টগ্রাম-১৬) জয় পেয়েছে জামায়াত। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতের জহিরুল ইসলাম ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

কক্সবাজার: চকরিয়ায় সালাহউদ্দিনের রেকর্ড, হামিদুর আজাদের পতন

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ৪টি আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি।

সালাহউদ্দিন আহমদের জয়: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে রেকর্ড ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

হেভিওয়েট পতন: কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আজাদ বড় ব্যবধানে হেরেছেন। অন্যদিকে কক্সবাজার-৩ ও ৪ আসনে জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থীরা জয় ছিনিয়ে নেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম: বিএনপির আধিপত্য, ধরাশায়ী শরিক জোট

পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেছেন।

খাগড়াছড়ি: দীর্ঘকাল পর এই আসনে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করেছেন আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

রাঙামাটি ও বান্দরবান: জোটের সমঝোতায় রাঙামাটি আসনটি খেলাফত মজলিস এবং বান্দরবান আসনটি এনসিপি-কে ছেড়ে দেওয়া হলেও বিএনপির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থীরাই জনসমর্থন পেয়েছেন।

কর্ণেল অলির পুত্রের পরাজয়: চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।

চট্টগ্রামের এই অভাবনীয় ফলাফল প্রমাণ করে যে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত। যদিও জোটের শরিকদের অনেক আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ভোটাররা সরাসরি ধানের শীষের প্রার্থীদের প্রতিই বেশি আস্থা দেখিয়েছেন। বিশেষ করে জামায়াতের হেভিওয়েট নেতাদের পরাজয় এই অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।