পাটুরিয়ায় মাঝনদীতে ফেরিতে আগুন: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন কয়েকশ যাত্রী ও যানবাহন

0
পাটুরিয়ায় মাঝনদীতে ফেরিতে আগুন: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন কয়েকশ যাত্রী ও যানবাহন

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহন ও যাত্রী বোঝাই রোরো ফেরি ‘কেরামত আলী’তে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পাটুরিয়া ৪ নম্বর ঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই ফেরিটির সাইলেন্সর পাইপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও ফায়ার সার্ভিস ও ফেরি স্টাফদের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রী সূত্রে জানা যায়, ফেরিটি ৪ নম্বর ঘাট থেকে কয়েকশ গজ দূরে যাওয়ার পরপরই ইঞ্জিনের সাইলেন্সর পাইপের ছিদ্র দিয়ে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে ঘন কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। মাঝনদীতে আগুনের এমন দৃশ্য দেখে ফেরিতে থাকা চালক ও সাধারণ যাত্রীরা প্রাণভয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালক দ্রুত ফেরিটি পুনরায় পন্টুনে ফিরিয়ে আনেন।

ফেরিটি ঘাটে ভেড়ানোর সাথে সাথে দ্রুত যাত্রী ও যানবাহন নামিয়ে ফেলা হয়। একই সময়ে ফেরির নিজস্ব হোস পাইপ দিয়ে সাইলেন্সর পাইপে পানি দেওয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে শিবালয় ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফায়ারম্যান ইকবাল হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবে দেখছে। পাটুরিয়া ঘাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুবেলুজ্জামান উদ্দিন জানান, “ফেরিটির ইঞ্জিন ‘টু-স্ট্রোক’ হওয়ায় লুব অয়েল বা মবিল ছিটে সাইলেন্সর পাইপে জমে যায়। সেখানে কার্বন জমে হঠাৎ আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সাধারণত একবার এমন আগুন লাগলে কার্বন পরিষ্কার হয়ে যায় এবং পরবর্তী কয়েক বছর আর সমস্যা হয় না।”

তবে এবারের আগুনের তীব্রতা কেন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ফেরিটিকে ভাসমান কারখানা ‘মধুমতি’তে নেওয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, বিষয়টি গুরুতর কিছু না হলেও কেন কার্বন জমে এতো ধোঁয়া ও আগুন বের হলো, তা প্রকৌশল বিভাগ তদন্ত করে দেখবে।