সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের ছোঁড়া গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক সাদ্দাম হোসেনের (২৫) মরদেহ চার দিনেও ফেরত পায়নি পরিবার। বিজিবির পক্ষ থেকে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা চললেও সোমবার (৬ এপ্রিল) পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার উপজেলার উত্তর রণীখাই ইউনিয়নের লামা উত্তমা গ্রামের কুটু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনসহ চার যুবক অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তারা সীমান্তের ১২৪৭ নম্বর পিলারের প্রায় ৬০০ গজ ভেতরে ‘রাজনটিলা’ এলাকায় সুপারি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।
এ সময় ওই সুপারি বাগানের মালিক খাসিয়ারা তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সাদ্দাম হোসেন নিহত হন। তার সঙ্গী ফরহাদ মিয়া (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তবে তাদের সাথে থাকা অন্য দুই সহযোগী আবু বক্কর ও জফির মিয়া কোনোমতে প্রাণে বেঁচে যান এবং আহত ফরহাদকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বর্তমানে সাদ্দামের মরদেহ সীমান্তের ওপারে পড়ে আছে।
নিহত সাদ্দামের বড় ভাই নাজীম উদ্দীন ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “চারটি দিন পার হয়ে গেল, কিন্তু আমরা এখনও আমার ভাইয়ের মরদেহটা পেলাম না। বিজিবি বলছে কথা চলছে, কিন্তু কোনো অগ্রগতি দেখছি না। আমরা শুধু ভাইয়ের লাশটা ফেরত চাই।”
মরদেহ ফেরত আনার বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, “সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন ভারতের অভ্যন্তরে যাওয়ার পর খাসিয়াদের গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। সাদ্দামের মরদেহ এখনও ভারতের ভেতরে রয়েছে। বিজিবি এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে।”
কোম্পানীগঞ্জ উত্তমা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আবুল কালাম জানান, মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। দ্রুত মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

