আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে উদ্ধার নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এক স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর ‘খাতামুল আম্বিয়া’ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনী পাইলট উদ্ধারে যে বিশেষ অভিযান চালিয়েছিল, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। অথচ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযানকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
রোববার সকালে ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত নাটকীয় ভঙ্গিতে জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে ঢুকে তাদের এক সাহসী পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে এনেছে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম সাহসী এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের বীর সেনারা শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে পাইলটকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্ধার অভিযানের সময় মার্কিন কমান্ডো ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সরাসরি তীব্র গোলাগুলি হয়েছে। তবে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর ‘খাতামুল আম্বিয়া’র মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইরানের ভাষ্যমতে, মার্কিন বাহিনী পাইলটকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়ে পিছু হটেছে।
ইরানি বাহিনীর কড়া পাহারার কারণে মার্কিন বিশেষ বাহিনী নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতেই পারেনি। ইরানের দাবি, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন আকাশযানের ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। ইরান বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরাজয়ের লজ্জা ঢাকতে এবং নিজেদের সেনাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে ‘সাফল্যের বানানো গল্প’ প্রচার করছেন।
বিবিসি ও আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এরপর থেকেই ওই নিখোঁজ পাইলটের অবস্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, পাইলট বর্তমানে তাদের নজরদারিতে বা প্রতিকূল ভূখণ্ডে আটকা পড়ে আছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধার করতে পারেনি।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাইফাতে সাম্প্রতিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই পাইলট উদ্ধারের ঘটনাটি দুই দেশের জন্যই একটি বড় ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান প্রমাণ করতে চাইছে তাদের আকাশসীমা দুর্ভেদ্য, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দেখাতে চাইছে তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের ‘ওয়ার ফাইটার’দের ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।
বর্তমানে ওই পাইলটের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি, তবে দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা ও ট্রুথ সোশ্যাল।

