রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে নজিরবিহীন হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা এই হামলায় কলেজের অধ্যক্ষ ও এক নারী শিক্ষকসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার একটি ভিডিও চিত্রে জনৈক শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে যখন কলেজে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল, তখন এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ার কারণে কলেজ চত্বরের ১০০ গজের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ মোতায়েন ছিল। এর মধ্যেই বহিরাগতরা জোরপূর্বক কলেজে প্রবেশ করে এই তাণ্ডব চালায়।
শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী হঠাৎ অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে ঢুকে আগের প্রশাসনের আমলের আয়-ব্যয়ের হিসাব দাবি করেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা চড়াও হন।
অধ্যক্ষের দাবি, তিনি চার মাস আগে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোই এই হামলার মূল কারণ। প্রতিবাদ করতে গেলে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ভিডিওতে তাকে জুতাপেটা করতে দেখা গেছে।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক (অধ্যক্ষ) আলেয়া খাতুন হীরা (প্রভাষক) রেজাউল করিম আলম (অধ্যাপক) এছাড়াও দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আকবর আলী চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “কলেজের পুরোনো দুর্নীতি ও অনিয়মের হিসাব চাওয়ায় শিক্ষকরাই আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। এমনকি আলেয়া খাতুন হীরা প্রথম হামলা করেন, যা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়।”
তবে দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ উপস্থিত থেকে উভয় পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু কিছু লোক জোর করে ঢুকে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলেই আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলাকালীন এবং ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা অবস্থায় শিক্ষকদের ওপর এমন হামলাকে ‘শিক্ষক সমাজের কলঙ্ক’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

