কুমিল্লা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির রণক্ষেত্র: অধ্যক্ষের কক্ষেই সংঘর্ষ, আহত ১০

0
কুমিল্লা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির রণক্ষেত্র: অধ্যক্ষের কক্ষেই সংঘর্ষ, আহত ১০

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত বিকেলে এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারাকে কেন্দ্র করে। এই ঘটনার বিচার চেয়ে ছাত্রশিবিরের একদল নেতাকর্মী অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করেন।

অধ্যক্ষ মাজারুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন।

তবে ছাত্রশিবির নেতারা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ‘অনস্পট’ বা তাৎক্ষণিক বিচার দাবিতে অনড় থাকেন। এই নিয়ে বিতণ্ডার একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত দ্রুত পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রের মহড়া দেখা গেছে।

সংগঠনটির নেতা হাসান আহমেদ অভিযোগ করেন, তাদের এক কর্মীকে মারধরের প্রতিবাদ জানাতে গেলে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল সভাপতি ইমন আহমেদ বলেন, এটি মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যকার বিরোধ। রাজনৈতিক রঙ চড়িয়ে ছাত্রদলকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ মাজারুল ইসলাম বলেন, “একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে যে এমন বড় ধরনের সংঘাত হতে পারে তা ভাবনাতীত। আমরা তদন্ত কমিটি করেছিলাম, কিন্তু তারা সময় না দিয়েই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বর্তমানে অ্যাকাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।