বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশাল নগরীর মুন্সিগ্রেজে এক তরুণী নার্সিং শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে জনৈক ‘হিমু’ নামক এক যুবকের বাসা থেকে সানজিদা কবির আনিতার (২০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রেমিক হিমু পলাতক থাকায় তাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত আনিতা কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং বরিশালের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায় ঝালকাঠির কাটপট্টি এলাকার মিল্টন আকনের ছেলে হিমুর সঙ্গে আনিতার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে আনিতা তার প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে মুন্সিগ্রেজের ওই বাসায় যান। দুপুরের দিকে হিমুর ঘর থেকেই তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, হিমুর বিরুদ্ধে এর আগেও একই কায়দায় অন্য এক তরুণীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সেই হত্যা মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এই তথ্যের সত্যতা মিললে হিমুর বিরুদ্ধে ‘সিরিয়াল অফেন্ডার’ হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে পুলিশ।
হিমুর মা দাবি করেছেন, সকালে আনিতা তাদের বাসায় আসার পর ছেলের ঘরে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহ দেখার পর পরই হিমু আত্মগোপনে চলে যায়। এদিকে আনিতার পরিবার বলছে, কেবল প্রেমের টানেই সে হিমুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল, কিন্তু সেখানে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত হিমুকে গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

