নরসিংদী প্রতিনিধিঃ নরসিংদীর শিবপুরে প্রাইভেট পড়াতে রাজি না হওয়ায় এক স্কুল শিক্ষককে বর্বরোচিতভাবে পিটিয়ে জখম করেছে একদল যুবক। এই ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ‘আবদুল মান্নান ভূঁইয়া আদর্শ বিদ্যাপীঠ’ সংলগ্ন এলাকায় এই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে।
আহত মঞ্জিল মোল্লা ওই বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন যুবক বিদ্যালয়ের মূল ফটকে এসে শিক্ষক মঞ্জিল মোল্লাকে ফোনে বাইরে ডেকে নেয়। সেখানে নির্দিষ্ট কয়েকজনকে প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে শিক্ষকদের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে যুবকরা চড়াও হয়ে শিক্ষককে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
শিক্ষকের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসে। তারা ধাওয়া দিয়ে হামলাকারী তিন যুবকের মধ্যে দুজনকে হাতে-নাতে ধরে গণধোলাই দেয়। আটককৃতরা হলেন— রাশিদুল ইসলাম (২৬) ও ইমন (২০)।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃতদের থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় নতুন উত্তেজনা। শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার দাবি জানিয়ে পুলিশের পথরোধ করে এবং পুলিশের একটি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
খবর পেয়ে শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আশ্বাস দিলে দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, “শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আহত শিক্ষক মঞ্জিল মোল্লাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারীসহ সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় না আনা হলে তারা আবারও রাজপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে নামবেন।

