ঢাবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের ওপর হামলায় ক্ষোভ

0
ঢাবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের ওপর হামলায় ক্ষোভ

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আকস্মিক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাবি এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতের এই সংঘাতের পর বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে এক প্রকার গুমোট ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘাতের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন দায়িত্বরত সাংবাদিকরাও, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শাহবাগ থানা সংলগ্ন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের তালিকায় রয়েছেন সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক। তানজিম, সিফাত (সাংবাদিক), লিটন (সাংবাদিক), খালিদ (সাংবাদিক), দেবাশিষ এবং আলবি।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অতর্কিত হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে টিএসসি চত্বর। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর এমন আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

রাত ১১টার দিকে সরেজমিনে ঢাবির ভিসি চত্বর, টিএসসি এবং রাজু ভাস্কর্য এলাকা ঘুরে দেখা গেছে জনশূন্য এক শান্ত তবে ভীতিকর পরিবেশ। সংঘর্ষের পর ছাত্রদল বা শিবিরের কোনো বড় জমায়েত চোখে পড়েনি।

শাহবাগ থানার প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ভেতরে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। গেটের সামনে সংবাদকর্মীদের ভিড় থাকলেও পুরো এলাকায় এক ধরণের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শাহবাগ থানার সামনেই দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সহাবস্থানের ওপর বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।