বরিশাল প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত বরিশালের সেই কথিত ‘টর্চারসেল’টি এখন ধ্বংসস্তূপ। বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিয়াজ মাহমুদ মিল্টন ওরফে মিল্টন চৌধুরীর ব্যক্তিগত কার্যালয়টি শুক্রবার দুপুরে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জেলা পরিষদ মার্কেটের ছাদের ওপর বিএনপির দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে একটি টর্চারসেল বানিয়েছিলেন মিল্টন চৌধুরী। সেখানে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন এবং মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হতো। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে কয়েকশ মানুষ একত্রিত হয়ে ওই কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা কার্যালয়ের কাঠের অবকাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পাশের খালে ফেলে দেয়।
মিল্টন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে দলীয় কর্মী হত্যা এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অপকর্মের দায়ে তাকে আগেই জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এলাকায় তার প্রভাব কমেনি।
১৮ এপ্রিল এলাকাবাসীর তীব্র আন্দোলনের মুখে কাউনিয়া থানা ঘেরাওয়ের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরদিন বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথমবারের মতো তার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। আজ দ্বিতীয় দফায় চূড়ান্তভাবে কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় জনতা বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসভবনে গিয়ে মিল্টনের শাস্তির দাবি জানান। ওই সময় এমপি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মিল্টন চৌধুরীকে অনেক আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বর্তমানে দলের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এমপির এই আশ্বাসের পরই জনতা ফিরে এসে চূড়ান্ত ভাঙচুর চালায়।
কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনজিৎ কুমার জানিয়েছেন, কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিল্টন চৌধুরী বর্তমানে চাঁদাবাজির মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন।

