আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধের ঘনঘটায় আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এক বিশাল কূটনৈতিক অর্জনের পথে হাঁটছে পাকিস্তান। দীর্ঘদিনের চিরশত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ইসলামাবাদ। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
হংকং ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চীন মর্নিং পোস্ট’ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আরাগচির এই সফর মূলত স্থগিত হয়ে যাওয়া শান্তি আলোচনাকে পুনরায় জীবন দেওয়ার একটি চেষ্টা। এরই মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অগ্রগামী লজিস্টিক ও সিকিউরিটি টিম অবস্থান করছে। জানা গেছে, শনিবারের মধ্যেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে অবতরণ করতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। এই অস্থিরতা নিরসনে পর্দার আড়ালে কাজ করে যাচ্ছেন পাকিস্তানের বর্তমান সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার। বিশেষ করে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে ইরানি নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগ এই আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ১১ ও ১২ এপ্রিল প্রথম দফার আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছিল। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি সম্প্রতি ইশাক দারের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেছেন, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের এই “গঠনমূলক ও সহায়ক” ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এবারের টেবিলে মূলত তিনটি বিষয় প্রাধান্য পাবে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি সচল রাখা। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করা। আলোচনার বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক চাপ কমানোর প্রস্তাব।
দীর্ঘ ছয় দশক পর পাকিস্তানে ফিল্ড মার্শাল পদমর্যাদার কোনো সেনাপ্রধানের অধীনে এমন একটি বড় মাপের আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা ঘটছে। যদি এই আলোচনা সফল হয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সংকটই মেটাবে না, বরং বৈশ্বিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের অবস্থানকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
“ইসলামাবাদের মাটিতে এই বৈঠক সফল হওয়া মানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা আসা এবং একটি সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি এড়ানো।”
ইসলামাবাদ এখন কেবল পাকিস্তানের রাজধানী নয়, বরং আগামী কয়েক ঘণ্টার জন্য এটি হয়ে উঠতে যাচ্ছে বিশ্ব শান্তির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

