মেঘনা পাড়ে ফিরল ‘রাসেল ভাইপার’ আতঙ্ক: কামড় খেয়েও সাপ বন্দি করে হাসপাতালে যুবক!

0
মেঘনা পাড়ে ফিরল ‘রাসেল ভাইপার’ আতঙ্ক: কামড় খেয়েও সাপ বন্দি করে হাসপাতালে যুবক!

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদী তীরবর্তী জনপদে নতুন করে হানা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া)। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার এখলাসপুর এলাকায় এই সাপের কামড়ে এক যুবক আহত হয়েছেন। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিষের জ্বালা সয়েও সাপটিকে জীবন্ত বন্দি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন ওই যুবক।

আহত যুবকের নাম সোহেল প্রধান (৩১)। তিনি এখলাসপুর গ্রামের সেলিম প্রধানের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, সোমবার সকালে মেঘনা নদীর পাড়ে নিজের নতুন বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় একটি কারেন্ট জালে বিশাল এক সাপকে আটকে থাকতে দেখেন সোহেল।

সাপটিকে জালমুক্ত করতে গিয়ে তিনি বিপদে পড়েন। বিষধর রাসেল ভাইপারটি আচমকা তার হাতে কামড় বসিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষ যেখানে আতঙ্কে দূরে সরে যায়, সেখানে সোহেল সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সাপটিকে ধরে ফেলেন। প্রথমে পলিথিন ব্যাগে এবং পরে একটি প্লাস্টিকের বয়ামে সাপটিকে ভরে তিনি দ্রুত চাঁদপুর সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ছোটেন।

সাপটি সঙ্গে থাকায় চিকিৎসকদের পক্ষে দ্রুত প্রজাতি শনাক্ত করা এবং চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়। সোহেল প্রধানকে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে অ্যান্টিভেনম প্রদান করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তাকে কামড়ানো সাপটি সত্যিকারের বিষধর রাসেল ভাইপার।

মেঘনার পশ্চিমাঞ্চলের চরগুলোতে—বোরচর, চরকাশিম, বাহেরচর ও বাহাদুরপুর—রাসেল ভাইপারের উপদ্রব এখন নিত্যদিনের আতঙ্ক। স্থানীয়দের দাবি গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলে এই সাপের আনাগোনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। মাঠে কাজ করা কৃষক এবং নদীতে মাছ ধরা জেলেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, “সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। সাপে কামড়ালে ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাসপাতালে যেতে হবে।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান জানান, হাসপাতালে অ্যান্টিভেনমের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন “বর্তমানে আমাদের মজুতে প্রায় ২০০ ডোজ অ্যান্টিভেনম রয়েছে। একজন রোগীকে প্রয়োজন অনুযায়ী ১০ ডোজ বা তার বেশি অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। আমরা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।”

প্রাণিবিদরা বলছেন, রাসেল ভাইপার জালে আটকা পড়লে বা আত্মরক্ষার সুযোগ না পেলে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। সোহেল প্রধানের মতো সাপ জীবন্ত ধরার চেষ্টা না করে বরং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং দ্রুত হাসপাতালে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। বর্ষার আগে নদীর পাড় ও ঝোপঝাড়ে চলাচলের সময় গামবুট ও লাঠি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।