কেশবপুর প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে প্রবাস ফেরত রেমিট্যান্স যোদ্ধার ঘাম ঝরানো স্বপ্ন আর সাজানো সংসার তছনছ করে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বামীর পাঠানো নগদ ৭ লাখ টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে নিজের ‘ভাতিজা’র সাথে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন এক গৃহবধূ।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রবাসীর মা মোসাঃ খাদিজা বেগম (৮০) গত ২৪ এপ্রিল কেশবপুর থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন পুত্রবধূ সুমাইয়া খাতুন (২৮) এবং মো. জাহিদ হাসান (৩৫) নামের এক যুবক। জাহিদ হাসান সম্পর্কে সুমাইয়ার দূর সম্পর্কের ভাতিজা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পারিবারিক ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর থানার বড়নডালী গ্রামের মৃত খোরশেদ গাজীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম প্রায় ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবে সুমাইয়া খাতুনকে বিবাহ করেন। বিবাহের তিন বছর পর সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে সিরাজুল মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। তাদের সংসারে ৩ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রবাসে থাকাকালীন সিরাজুল তার সমস্ত উপার্জিত টাকা বিশ্বস্ততার সাথে স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে এবং হাতে পাঠাতেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সিরাজুলের অবর্তমানে জাহিদ হাসান প্রায়ই তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। সম্পর্কে ফুফু-ভাতিজা হওয়ায় পরিবার শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিলেও, ধীরে ধীরে তারা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। গত ২৪ এপ্রিল ভোরে সুমাইয়া খাতুন সুযোগ বুঝে ঘরে রক্ষিত নগদ ৭ লাখ টাকা এবং ২ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে জাহিদ হাসানের সাথে পালিয়ে যান। পরে জানা যায়, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। প্রবাসীর মা খাদিজা বেগম জানান, সিরাজুল ইসলাম এখনও বিদেশে অবস্থান করছেন। তার অজান্তে এবং প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদ না করেই সুমাইয়ার এই পুনরায় বিবাহকে তিনি অবৈধ ও প্রতারণামূলক ‘ব্যাভিচার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। খাদিজা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, আমার ছেলেটা বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে টাকা পাঠাতো একটা সুন্দর ভবিষ্যতের আশায়। কিন্তু সেই টাকা আর গয়না নিয়ে সে পালিয়ে গেল। আমি এই বয়সে বিচার চাইতে থানায় এসেছি। এই ঘটনায় এলাকার অন্তত তিনজনকে সাক্ষী করা হয়েছে যারা এই অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে জানতেন। বর্তমানে ওই প্রবাসীর পরিবারটি সামাজিকভাবে এবং আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন। এলাকাবাসীর মধ্যে এই ঘটনাটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কেশবপুর থানা পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

