লোহাগড়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ: অর্থ দাবি, অপমানে বিষপানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুমেক হাসপাতালে

0
লোহাগড়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ: অর্থ দাবি, অপমানে বিষপানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুমেক হাসপাতালে

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার ব্যবহারিক খাতা জমা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল করার এক রোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। শুধু ভিডিও ধারণই নয়, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীর পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকাও দাবি করেছে তিন বখাটে।

এই চরম লোকলজ্জা ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফিরে বিষপান (হারপিক) করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে ওই শিক্ষার্থী। বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে পাঞ্জা লড়ছে। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরের দিকে লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়নের মঙ্গলহাটা গ্রামে এই নির্মম ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত কিশোরী মল্লিকপুর সরকারি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে সে তার ব্যবহারিক পরীক্ষার (প্র্যাক্টিক্যাল) খাতা জমা দেওয়ার জন্য নিজ বাড়ি থেকে স্কুলে গিয়েছিল। খাতা জমা দিয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে একই গ্রামের তিন চিহ্নিত বখাটে— রায়হান, তামিম ও লিকু পরস্পর যোগসাজশে ওত পেতে থাকে।

স্কুলের অদূরে একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে বখাটেরা ওই ছাত্রীর পথরোধ করে এবং জোরপূর্বক তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীটিকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে বখাটেরা তাদের মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করে।

ভিডিও ধারণের পর বখাটেরা ওই ছাত্রীকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং এই গোপন ভিডিও পুঁজি করে তার পরিবারের কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

বখাটেদের হাত থেকে কোনোমতে রেহাই পেয়ে বাড়ি ফেরে ওই শিক্ষার্থী। কিন্তু এই চরম অপমান ও মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। ঘরে থাকা হারপিক পান করে ছটফট করতে থাকলে পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে তাকে দ্রুত লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

মল্লিকপুর সরকারি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। রায়হান, তামিম ও লিকু (গ্রাম: মঙ্গলহাটা)। লোহাগড়া হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর, বর্তমানে চিকিৎসাধীন। পুলিশ এখনো লিখিত অভিযোগ পায়নি, তবে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মেয়েটির পাকস্থলী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক ওয়াশ শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে কিংবা ঘটনাটির গভীরতা বিবেচনায় আমরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তিন বখাটে এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে। বখাটেদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও সহপাঠীরা।